এক রাতের আঁধারে উধাও ৩টি দোকান: লোহাগাড়ায় ঘটল অলৌকিক ঘটনা!

সকালে এসে খালি ভিটে দেখে হতবাক ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩৩

প্রতিদিনের মতো রাতে দোকান ভালোভাবেই বন্ধ করে ঘরে ফিরেছিলেন তারা। দিনের ক্লান্তি শেষে সকালের নতুন আশা নিয়ে ফের দোকানে আসেন বেচাকেনা করতে।

কিন্তু বাজারে পা রাখতেই চোখ চড়কগাছ! ভিটে আছে, ভিটের মাটিও আছে-কিন্তু নেই আস্ত দোকানঘরগুলো!

রাতের কোনো এক রহস্যময় সময়ে টিনের চাল, কাঠের কাঠামো এবং ভেতরের সমস্ত মালামালসহ গায়েব হয়ে গেছে পরপর তিনটি দোকান।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর খাঁনহাট বাজারে শনিবার গভীর রাতে ঘটে গেছে এমন এক অদ্ভূত ও চাঞ্চল্যকর ঘটনা। এক রাতের ব্যবধানে সবকিছু হারিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন ৩ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।

ক্ষতিগ্রস্তরা হলেন-কালাম (মোবাইলের দোকান), জাহাঙ্গীর আলম (চায়ের দোকান) ও ওসমান (পানের দোকান)। তাদের দাবি, দোকানে থাকা মালামাল ও পুরো অবকাঠামো চুরির ফলে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম আক্ষেপ করে বলেন, রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি গেলাম। সকালে এসে দেখি আমার দোকান বলে কিছু নেই!

শুধু চা-পাতা, বিস্কুট বা পানীয় নয়, দুর্বৃত্তরা পুরো দোকানের টিন ও কাঠের কাঠামো পর্যন্ত তুলে নিয়ে গেছে। সেখানে দোকানের কোনো অস্তিত্বই অবশিষ্ট রাখেনি। এক রাতেই আমার দীর্ঘদিনের রুটিরুজি ও স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল।

দোকানঘরের পৈত্রিক মালিক মোহাম্মদ মহসিন জানান, দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে তারা পৈত্রিক জমিতে এই দোকানগুলো নির্মাণ করে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।

গভীর রাতে সংঘবদ্ধ একটি দুর্বৃত্তের দল রাতের আঁধারে পুরো ৩টি দোকানই তুলে নিয়ে গেছে। এমন নজিরবিহীন ঘটনায় তিনি তীব্র নিন্দা জানান এবং প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেন।

এদিকে লোহাগাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ জানান, বিষয়টিতে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তারা আইনের আশ্রয় গ্রহণ করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে আশ্বস্ত করেন।

লোহাগাড়ার স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে এই অলৌকিক কায়দায় দোকান উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন-রাতের অন্ধকারে এমন বিশাল ৩টি অবকাঠামো কীভাবে সবার অলক্ষ্যে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলো?

দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি