জনসেবা ও স্বাস্থাসেবার আড়ালে সরকারি ও বেসরকারি অনুদানের কোটি কোটি টাকা পকেটে পুরে নেওয়ার এক অবিশ্বাস্য প্রতারণার চিত্র উঠে এসেছে চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক সমিতিতে।
সমিতির নামে আসা অনুদানের টাকা দিয়ে নিজের অনিশ্চিত মালিকানার জমি কেনাবেচার ‘নাটক’ সাজিয়ে ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর চৌধুরী ও ট্রেজারার মো. বেলাল উদ্দীনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন একই কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সবুজ হোসেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এর উপ-পরিচালক আল আমিন।
মামলার প্রধান আসামি জাহাঙ্গীর চৌধুরী চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার শাহনগর গ্রামের ফারুখ আহমেদ চৌধুরীর ছেলে এবং দ্বিতীয় আসামি মো. বেলাল চৌধুরী নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার হাজিপুর গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত সময়কালে আসামিরা অভিনব পন্থায় এ অর্থ আত্মসাৎ করেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে হাসপাতালে অনুদান হিসেবে বরাদ্দ পাওয়া টাকা নিজেদের পকেটে তুলতে ২০২০ সালের ৪ জুলাই একটি জমি ক্রয়ের অনিবন্ধিত ‘বায়নানামা’ তৈরি করা হয়।
এই জালিয়াতির মূল চমক ছিল বায়নানামার দুই পক্ষেই! বায়নানামায় ডায়াবেটিক সমিতির পক্ষে ‘বায়নাগ্রহীতা’ হন ট্রেজারার মো. বেলাল উদ্দিন এবং ‘দাতার’ ভূমিকায় স্বয়ং হাজির হন সমিতির তৎকালীন সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী।
অর্থাৎ ডায়াবেটিক সমিতির টাকা দিয়ে সভাপতি নিজেই নিজের জমি বিক্রির চুক্তি করেন। অথচ চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো-জমি কেনাবেচার এই পুরো প্রক্রিয়ার বিষয়ে ডায়াবেটিক সমিতির নির্বাহী কমিটিতে কোনো আলোচনা বা সিদ্ধান্তই নেওয়া হয়নি।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ২০০৬ সালের ৫ অক্টোবরের একটি আমমোক্তারনামা (যা দেন মোহাম্মদ ইদ্রিস চৌধুরী, যিনি ২০২৪ সালে মারা যান) মূলে জাহাঙ্গীর চৌধুরী হাটহাজারী ভূমি অফিসের অধীন ৬.৪৪ একর জমির মালিকানা দাবি করেন।
তবে ওই জমির কোনো নামজারি কিংবা জমাভাগ খতিয়ান ছিল না। আইনগতভাবে অস্পষ্ট সেই জমির মোট মূল্য দেখানো হয় ৯ কোটি টাকা।
পরবর্তীতে এই ভুয়া বায়নানামাকে ঢাল বানিয়ে সরকারি অনুদানের ২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সিডিবি (CDB) প্রকল্পের নামে আসা আরও ১৭ লাখ ৯৫ হাজার টাকা-মোট ২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা সভাপতি জাহাঙ্গীর চৌধুরী তার ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করে আত্মসাৎ করেন।
সামাজিক দায়বদ্ধতা ও চিকিৎসার নামে আসা জনসাধারণের অনুদানের টাকায় এই ভয়াবহ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০ এবং ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের এই কঠোর পদক্ষেপে সুশীল সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


