চট্টগ্রাম বোর্ডে এইচএসসিতে নজিরবিহীন বিপর্যয়:পাসের হার ৫২.০৭ শতাংশ

ছেলেদের পাসের হার ৪৭%-এ ঠেকেছে, মেয়েদের জয়জয়কার সত্ত্বেও ভরাডুবি!

জিপিএ-৫-ও কমল অর্ধেকের বেশি প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২৭

চট্টগ্রাম উচ্চমাধ্যমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে নেমে এসেছে নজিরবিহীন ধস।

পাসের হার, মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ এবং লিঙ্গভিত্তিক সাফল্যের খতিয়ান-সব সূচকেই টানা দেড় দশকের (১৫ বছর) সর্বনিম্ন পারফরম্যান্স রেকর্ড করেছে বোর্ডটি।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শিক্ষা বোর্ড ঘোষিত আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এ বছর বোর্ডের অধীনস্থ ১১৪টি কেন্দ্রে ২৮০টি কলেজের ৯৬ হাজার ৩ ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে মাত্র ৫২.০৭ শতাংশ।

গত বছর (২০২৫ সাল) এই হার ছিল ৫২.৫৭ শতাংশ। সামগ্রিক পাসের হার কমায় প্রতি দুজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় একজন অকৃতকার্য হওয়ার মতো করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে।

সামগ্রিক শিক্ষার মানে বড়সড় সংকেত
গত ১৫ বছরের মধ্যে এটি চট্টগ্রাম বোর্ডের সবচেয়ে শোচনীয় ফলাফল। ধারাবাহিক অবক্ষয়ের চূড়ান্ত রূপ প্রকাশ পেয়েছে এই ৫২.০৭ শতাংশ হারের মধ্য দিয়ে।

এই পাসের হার কেবল শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা নয়, বরং বোর্ডের ক্লাসরুম মনিটরিং, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার ওপর বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দেয়।

ছেলেদের পাসের হার ৪৭%-এ ঠেকেছে, মেয়েদের জয়জয়কার সত্ত্বেও ভরাডুবি:
ফলাফলে স্পষ্ট বৈষম্য ধরা পড়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে। ছেলেদের পাসের হার নেমে এসেছে মাত্র ৪৭.৬২ শতাংশে। অন্যদিকে মেয়েরা ৫৩.৮৯ শতাংশ পাস করে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে।

কিন্তু মেয়দের তুলনামূলক ভালো ফলাফলের পরও তা পুরো বোর্ডের সামগ্রিক ভরাডুবিকে ঠেকাতে পারেনি, যা ছেলেদের পড়াশোনায় অনীহা ও ক্লাসে অনুপস্থিতির আশঙ্কাজনক সংকেত দিচ্ছে।

জিপিএ-৫ কমলো অর্ধেকেরও বেশি: মেধার শীর্ষেও খরা
গুণগত শিক্ষার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে জিপিএ-৫ অর্জনে। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২,৯২৯ জন, যা গত বছরের তুলনায় ৩,১৬৮ জন কম।

জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যা অর্ধেকেরও বেশি কমে যাওয়া ইঙ্গিত দেয় যে এবার কেবল সাধারণ শিক্ষার্থীরাই নয়, মেধার দৌড়ে শীর্ষে থাকা শিক্ষার্থীরাও কাঙ্ক্ষিত নম্বর পাননি।

পাহাড়ি জেলায় চরম বিপর্যয় ও শতভাগ শূন্য ফলাফল :
ফলাফলের জেলাভিত্তিক বিশ্লেষণে সবচেয়ে করুণ দশা উন্মোচিত হয়েছে পাহাড়ি অঞ্চলে। চট্টগ্রাম মহানগরে পাসের হার ৬৬.২০ শতাংশ হলেও পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে তা নেমে এসেছে মাত্র ২৯.৮৫ শতাংশে। এ ছাড়া রাঙামাটিতে ৩৩.২৪ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১.৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে।

বোর্ডের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যেও চরম বৈষম্য তৈরি হয়েছে। এবার ছয়টি কলেজ শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করলেও তিনটি কলেজের একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি-অর্থাৎ পাসের হার শূন্যের কোঠায় ঠেকেছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, পাহাড়ি এলাকা ও মফস্বলের কলেজগুলোতে বিষয়ভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষকের অভাব, ক্লাসে নিয়মিত তদারকির অভাব এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নে নতুন মানদণ্ড এই নজিরবিহীন পতনের পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফলাফলের এই ধস গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠানের ফল শূন্য বা আশঙ্কাজনক, তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি