চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে চোর সন্দেহে স্কুলছাত্র মাহিন হত্যা মামলায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার মধ্যরাতে ফটিকছড়ি থানার এসআই ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার কাঞ্চন নগর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের সাকর আলী তালুকদার বাড়ির আত্বীয়ের ঘরে আত্বগোপনে থাকা অবস্থায় তাকে প্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেপ্তারকৃত তানভীর ওই এলাকার জনৈক মো. নুরুল আবছারের ছেলে।
হত্যাকান্ডের ঘটনার দিন আহত মানিক জানান, তানভীর ঘটনার দিন মাহিন, রাহাত ও আমাকে দড়ি দিয়ে বেঁধে সূঁচের খোঁচা দিয়ে আঘাত করে নির্যাতন করে। এতে ঘটনাস্থলে মাহিনের মৃত্যু হয়। আহত রাহাত ও আমাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফারুক হোসেন জানান, ঘটনার ওর থেকে আসামি তানভীর পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারি, সে এলাকায় ফিরেছে। গতরাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফটিকছড়ি থানার ওসি নুর আহমদ জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাহিন হত্যাকাণ্ডে তানভীরের সরাসরি সম্পৃক্ততার সত্যতা পাওয়া গেছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মাহিন হত্যা মামলায় মোট ৬ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২২ আগস্ট রাতে ফটিকছড়িতে ‘চোর’ সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয় মাহিনকে। ওই ঘটনায় গুরুতর আহত হয় তার আরও দুই বন্ধু।
পুলিশ জানায়, ওই রাতে মাহিন ও তার দুই বন্ধু এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিল। পথে স্থানীয় কয়েকজন তাদের ‘চোর’ বলে ধাওয়া দেয়। একপর্যায়ে তিনজনকে ধরে এনে সকাল পর্যন্ত মারধর করা হলে ঘটনাস্থলেই মাহিনের মৃত্যু হয়।
নিহত মাহিন কাঞ্চননগর উচ্চবিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র এবং স্থানীয় ব্যবসায়ী মুহাম্মদ লোকমান ও খাদিজা বেগম দম্পতির একমাত্র সন্তান ছিল।
এ ঘটনায় মাহিনের মা খাদিজা বেগম বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও পাঁচ-সাতজনকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
হত্যা মামলায় তানভীরসহ একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হলেও মাষ্টার নাজিম উদ্দীন , মহিন উদ্দিন ও মো. তৈয়ব নামে ঘটনার মূল হোতারা ধরা ছোয়ার বাইরে বলে জানান নিহতের মা খদিজা বেগম।


