বিশেষ প্রতিবেদন : পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রামজুড়ে সড়ক, বাস কাউন্টার ও ফুয়েল স্টেশনগুলোতে ব্যাপক মনিটরিং ও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে শুরু হওয়া এ অভিযানে নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাসস্ট্যান্ড ও মহাসড়কে তদারকি জোরদার করা হয়।
যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ, যানজট নিরসন এবং জ্বালানির সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত করাই ছিল এ কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য।
নগরীর নতুনব্রিজ এলাকায় সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাইয়ান ফেরদৌস এবং ইজাহারুল আহম্মেদ শিহাব সিএনজি স্ট্যান্ডে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে জরিমানা আদায় করেন।
একই সঙ্গে বাস কাউন্টারগুলোতে ভাড়া তালিকা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা হয়।
অন্যদিকে, ফুয়েল স্টেশনগুলোতে জ্বালানির অবৈধ মজুদ, সঠিক পরিমাপ ও নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা তদারকি করা হয়। নতুনব্রিজ ও সীতাকুণ্ডের তিনটি ফুয়েল স্টেশনে অর্ধলক্ষাধিক টাকা জরিমানা করেন ম্যাজিস্ট্রেটগণ।
এদিকে নগরীর অক্সিজেন মোড়, হাটহাজারী, বায়েজিদ ও দামপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৃথক পৃথক ভ্রাম্যমান আদালতের নেতৃত্ব দিয়েছেন সহকারী কমিশনার তামজিদূর রহমান ও সুমন মন্ডল অপু।
অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে কয়েকটি পরিবহনকে জরিমানা করা হয় এবং চালক ও মালিকদের সতর্ক করা হয়।
বোয়ালখালী উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা বিকেল ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত ফুলতল থেকে রেল বিট এলাকা পর্যন্ত সড়কে অভিযান পরিচালনা করেন।
সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া না গেলেও যানজট নিরসন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এসময় বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মিরসরাই উপজেলার বারৈরহাট ও পৌরসভা মহাসড়কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালিত হয়।
এসময় চয়েস বাস কাউন্টারসহ বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় রোধে অভিযান চালানো হয়।
পটিয়া উপজেলার মনসা বাদামতল এলাকাতেও ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রয়া ত্রিপুরা সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তিনটি গণপরিবহনকে জরিমানা করেন।
এসময় ড্রাইভিং লাইসেন্স, রুট পারমিট, ট্যাক্স টোকেন ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা হয় এবং যাত্রীদের কাছ থেকেও তথ্য নেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ঈদের ছুটিতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে এবং সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



