back to top

চট্টগ্রামে মজুদ তেলের গোপন নেটওয়ার্ক: আড়ালে কারা-খুঁজছে প্রশাসন

‘ব্র্যান্ড’ তেলের আড়ালে অবৈধ কারবার

প্রকাশিত: ০৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৫০

উচ্চ চাহিদা ও মূল্য বৃদ্ধির সুযোগে ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে মজুদ বাড়িয়ে একদিকে মুনাফা করছে অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলো বৈধ ব্র্যান্ডের ছদ্মবেশে তেল অস্বাস্থ্যকরভাবে সংরক্ষিত রেখে বাজারজাত করছে। পাশাপাশি বাজার সংকটে ফেলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি করছে।

এসবের মাঝে জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যখন প্রশ্নের মুখোমুখি, ঠিক সেই সময় চট্টগ্রামে মিলেছে একটি গোপন তেল সিন্ডিকেটের তথ্য।

আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন, র‍্যাব-৭, সিএমপি এবং বিএসটিআই যৌথ অভিযান চালিয়ে নগরীর বায়েজীদ ও খুলশী থানার দুটি প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণে অবৈধভাবে মজুদ ও বোতলজাত করা ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়, এবং অভিযানে পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে জরিমানা আদায় করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মজুদ তেলের গোপন নেটওয়ার্কের সুস্পস্ট তথ্য পেয়ে বুধবার নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন গুলবাগ আবাসিক এলাকার ‘আমানত প্যাকেজিং এন্ড মার্কেটিং’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানে যৌথ অভিযান চালানো হয়।মজুদ

অভিযানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বিএসটিআই সনদ ছাড়া তেল বোতলজাত করছিল এবং পণ্যের মোড়কে মানচিহ্ন ব্যবহার করছিল।

তাৎক্ষনিক অভিযানে প্রতিষ্ঠানে মজুদ রাখা এক হাজার ৪২ লিটার সয়াবিন তেল, ১০ হাজার পিস মোড়ক এবং খালি বোতল জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাকিব শাহরিয়ার জানান, জব্দকৃত সামগ্রী সংশ্লিষ্ট থানার জিম্মায় রাখা হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠান মালিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এদিকে একই দিন পাঁচলাইশ থানধীন ষোলশহর ২ নম্বর গেট এলাকায় দুটি প্রতিষ্ঠানে পৃথক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ওই এলাকার মাবিয়া স্টোরে সরকারি লাইসেন্স ছাড়া প্রায় ৫০ ড্রাম ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল মজুত রাখার দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।মজুদ

একই এলাকায় খাজা স্টোরে লাইসেন্স থাকলেও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তেল সংরক্ষণের দায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লাইসেন্সবিহীন বোতলজাতকরণ এবং অস্বাস্থ্যকর সংরক্ষণ ভোক্তাদের জন্য সরাসরি ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।

তেল মজুদ ও অভিযানের বিষয়ে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

আজ নগরীর বায়েজীদ এবং পাঁচলাইশ থানা এলাকায় মজুদ তেলের গোপন নেটওয়ার্ক ধরেেযৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ মজুদকৃত তেল জব্দ এবং জরিমানা আদায় করে মামলা করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি বলেন, অবৈধ মজুদ ও অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রির বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ পর্যন্ত জেলায় মোট ২৬৯টি অভিযান চালিয়ে প্রায় ৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে প্রায় ৭৫ হাজার ৮২৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে।

ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদারের কথা জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সোর্সের গোপন তথ্যমতে সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে প্রশাসন।

তবুও বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অবৈধ তেল বাণিজ্য কেবল অর্থনৈতিক অপরাধ নয়, এটি ভোক্তার স্বাস্থ্য ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। শুধু অভিযান বা জরিমানা দিয়ে অবৈধ সিন্ডিকেটকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, যদি অবৈধ সিন্ডিকেট শনাক্ত না হয় এবং বাজারে নজরদারি কঠোর না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে আরও বিপুল পরিমাণ তেল বাজারে প্রবেশ করতে পারে।

সরকারের জন্য এখন প্রয়োজন লাইসেন্স যাচাই, ট্রেসেবিলিটি ব্যবস্থা এবং বাজার পর্যবেক্ষণ শক্তিশালী করা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি