একটি আধুনিক, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব নগরী গড়ে তুলতে কেবল চওড়া রাস্তা বা বহুতল ভবনই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন গভীর গবেষণা, দূরদর্শী উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিনির্ভর সঠিক সমাধান।
চট্টগ্রামকে ঠিক এমনই একটি জ্ঞানভিত্তিক ও স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের লক্ষ্যে আজ এক ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হলো।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির যৌথ উদ্যোগে আজ রবিবার (৫ জুলাই) বিকাল সাড়ে তিনটায় প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির জিইসি মোড়স্থ ক্যাম্পাসে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।
এই সেন্টারের পেছনের গল্পটি বেশ অনুপ্রেরণাদায়ক ও মানবিক। ২০২৫ সালের জুলাই মাসে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করেছিলেন।
সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্সের সঙ্গে শিক্ষা, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়ে তাঁর একটি ফলপ্রসূ মতবিনিময় হয়।
ঠিক এক বছর পর, সেই আলোচনারই সফল ও বাস্তব রূপ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল এই ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।
এটি এখন থেকে চট্টগ্রাম নগর ব্যবস্থাপনা, উদ্ভাবন, গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি অনন্য বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
রিসার্থ সেন্টারটি উদ্বোধনের ঠিক আগে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি ও কানাডার কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যৌথ গবেষণা, উন্নয়ন কার্যক্রম এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়ের লক্ষ্যে একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
এই চুক্তির ফলে চট্টগ্রামের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও জ্ঞান বিনিময়ের এক উন্মুক্ত দিগন্তে প্রবেশের সুযোগ পেলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সেন্টারটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “একটি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব নগর গড়ে তুলতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই।
এই ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ আমাদের নগরসেবার বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা চিহ্নিত করবে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধান বৈজ্ঞানিক উপায়ে খুঁজে বের করবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এই অংশীদারিত্ব চট্টগ্রামকে একটি স্মার্ট সিটিতে রূপান্তরের পথে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।”
বক্তব্যে মেয়র প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক বিভিন্ন অর্জনের প্রশংসা করেন। বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়টির পাঁচটি স্নাতক (অনার্স) প্রোগ্রাম বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল থেকে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জন করায় এর প্রাতিষ্ঠানিক তাৎপর্য ও মেধার স্বীকৃতির কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে সুদূর কানাডা থেকে উপস্থিত ছিলেন কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. টিম ইভান্স।
চসিক ও প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা এমন একটি শক্তিশালী অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে চাই, যা কেবল প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নই করবে না, বরং স্থানীয় ও বৈশ্বিক বিভিন্ন নাগরিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর সমাধান তৈরি করবে।”
অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক এস. এম. নছরুল কদির তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বিশ্বমানের শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং কনকর্ডিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আমাদের এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি ও আন্তর্জাতিক একাডেমিক সংযোগকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
এই সেন্টার থেকে প্রাপ্ত নীতিগত সুপারিশ নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।”
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটির পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন-অধ্যাপক ড. জাহেদ হোছাইন সিকদার (ট্রেজারার), মোহাম্মদ ইফতেখার মনির (রেজিস্ট্রার), সাদাত জামান খান (ডিরেক্টর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিস), হোসেন মুরাদ (চেয়ারম্যান, স্থাপত্য বিভাগ), ফাইজা চৌধুরী (কাউন্সেলর, ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স অফিস)।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা রক্তিম চৌধুরী এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মঈনুল হোসেন চৌধুরী।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অতিথিবৃন্দ নবপ্রতিষ্ঠিত ‘সিটি সার্ভিস ইনকিউবেটর অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’ ঘুরে দেখেন এবং এর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।
চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ আশা করছেন, এই সেন্টারের হাত ধরে চিরচেনা বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবার সেজে উঠবে এক নতুন, আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত রূপে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

