ঢাকায় বৈঠক, নজর চট্টগ্রামে: চার উপজেলায় পরিকল্পিত নগর গড়ার উদ্যোগ

জলমগ্ন নগরের খোঁজে ভিডিও কলেই কাটল সিডিএ চেয়ারম্যানের দিন

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:৩৫

চট্টগ্রামের মূল শহরের ওপর থেকে জনসংখ্যা ও অপরিকল্পিত অবকাঠামোর দমবন্ধ চাপ কমাতে এবার এক যুগান্তকারী মহাপরিকল্পনার (মাস্টার প্ল্যান) প্রস্তাব করা হয়েছে।

মহানগরের চারপাশের চারটি উপজেলা-হাটহাজারী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলীকে স্যাটেলাইট সিটির আদলে পরিকল্পিত উপশহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

রোববার বিকেলে সচিবালয়ে নবনিযুক্ত দেশের ৯টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

সেই বৈঠকেই সিডিএর ভবিষ্যৎ রূপরেখা ও চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিবরণ দিতে গিয়ে এই মেগা প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সিডিএ চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

সিডিএ চেয়ারম্যান বৈঠকে জানান, চট্টগ্রামের ক্রমবর্ধমান জনঘনত্ব ও যানজট নিরসনে শহরের চার প্রান্তে সুষম নগরায়ণ এখন সময়ের দাবি।

হাটহাজারী, বোয়ালখালী, আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলাকে যদি পরিকল্পিতভাবে উপশহর হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তবে মূল শহরের ওপর চাপ যেমন কমবে, তেমনি ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণও হবে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় বাড়িয়ে জনগণের দুর্ভোগ সবার আগে কমাতে হবে।

একই সঙ্গে তিনি শহরগুলোকে নান্দনিক, সবুজ এবং বাসযোগ্য করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নাগরিকদের সচেতন করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে তিনি চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সমস্যা ‘জলাবদ্ধতা’ নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার তাগিদ দেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে এবং নালা-নর্দমা নিয়মিত পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি নাগরিকদেরও সচেতন করতে হবে।”

বৈঠকে সিডিএ চেয়ারম্যানের একটি মানবিক ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সবার নজর কেড়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাভুক্ত এলাকা না হওয়া সত্ত্বেও, নিজের জন্মস্থান সন্দ্বীপের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত দুর্ভোগের কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন।

সন্দ্বীপবাসীর জন্য একটি আধুনিক সি-ট্রাক চালু এবং নদী বা সমুদ্রের উভয় পাড়ের ফেরিঘাটে টেকসই অবকাঠামো নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

নিজের জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করে সিডিএ চেয়ারম্যান বলেন, সন্দ্বীপ সিডিএর আওতাভুক্ত না হলেও সেখানকার মানুষের প্রতি তার একটি নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে।

এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী সন্দ্বীপবাসীর জন্য একটি আধুনিক সি-ট্রাক এবং ফেরিঘাট উন্নয়নের ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছেন।

এদিকে, চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টি ও সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছেন সিডিএ চেয়ারম্যান। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অবস্থান করলেও তার মন পড়ে ছিল বন্দরনগরীতে।

মুঠোফোনে ভিডিও কলের মাধ্যমে তিনি সিডিএর প্রকল্প পরিচালক আহমেদ মঈনুদ্দিন, দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে যুক্ত হন।

ঝুঁকিপূর্ণ নিচু এলাকাগুলোর পরিস্থিতি এবং কোথাও পানি জমছে কি না, তার নিয়মিত খোঁজখবর নেন এবং নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখার জরুরি নির্দেশনা দেন।

সিডিএ সূত্র জানায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রথাগত দাপ্তরিক আমলাতন্ত্র ভেঙে ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন নিজে মাঠপর্যায়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প সরেজমিনে পরিদর্শন ও নিয়মিত তদারকি করছেন।

যার ফলে সিডিএর চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের গতি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা নগরবাসীর মনে নতুন আশার সঞ্চার করছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি