বিচারাধীন আইনি লড়াইয়ের মাঝেই নতুন উপজেলা, উত্তাল ফটিকছড়ি

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২২:০৩

নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক অঙ্গন।

একদিকে নতুন উপজেলা থেকে সুয়াবিল ইউনিয়নকে বাদ দেওয়ার দাবিতে স্মারকলিপি ও মানববন্ধন হয়েছে।

অন্যদিকে নতুন উপজেলার সদর দপ্তর ‘যৌক্তিক স্থানে’ স্থাপনের দাবিতে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করেছে ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদ চত্বরে ‘বৃহত্তর সুয়াবিল অধিকার সংরক্ষণ ফোরাম’-এর ব্যানারে স্থানীয় বাসিন্দা ও সর্বস্তরের মানুষ এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া বক্তারা অভিযোগ করেন, স্থানীয় জনগণের মতামত, প্রশাসনিক বাস্তবতা এবং উচ্চ আদালতে চলমান বিচারাধীন বিষয়কে পুরোপুরি উপেক্ষা করে সুয়াবিল ইউনিয়নকে নতুন এই উপজেলার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে এলাকাবাসী কোনোভাবেই মেনে নেবে না।

বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস হতে হবে জনমতের ভিত্তিতে।

একই সঙ্গে আদালতে রিট পিটিশন বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত কার্যকর না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

কর্মসূচি শেষে ফোরামের নেতৃবৃন্দ ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মোহাম্মদ ইব্রাহীমের কাছে একটি লিখিত স্মারকলিপি পেশ করেন।

স্মারকলিপিতে সুয়াবিল ইউনিয়ন ও পৌরসভার সংশ্লিষ্ট অংশকে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা থেকে বাদ দিয়ে পূর্বের প্রশাসনিক অবস্থান বহাল রাখার জোর দাবি জানানো হয়।

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন করা না হলে আগামীতে আরও কঠোর ও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সুয়াবিলের বিশিষ্ট বাসিন্দা ও নাজিরহাট কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এস. এম নুরুল হুদা, এস. এম শফিউল আলম, ডা. ফরিদ, আমান উল্লাহ এবং মোহাম্মদ মনচুরসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

এদিকে নতুন উপজেলাকে কেন্দ্র করে ফটিকছড়ির অন্য অংশেও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে।

নবগঠিত ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলার সদর দপ্তরটি একটি ভৌগোলিকভাবে যৌক্তিক ও সুবিধাজনক স্থানে স্থাপনের দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন বাগানবাজার, দাঁতমারা ও নারায়ণহাট ইউনিয়নের বাসিন্দারা।

এরই ধারাবাহিকতায় আজ মঙ্গলবার ওই তিন ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট পালন করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, সদর দপ্তর নির্বাচনে যদি দূরদর্শিতা দেখানো না হয়, তবে সাধারণ মানুষকে চরম প্রশাসনিক ভোগান্তিতে পড়তে হবে।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, নবগঠিত উপজেলাকে ঘিরে সৃষ্টি হওয়া এই দ্বিমুখী সংকট নিরসনে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ ও স্থানীয় অংশীজনদের সাথে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি