চট্টগ্রাম নগরের পাহাড়তলী থানার আলোচিত ইলেকট্রিক মিস্ত্রি মো. রিফাত (২৫) হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি আসামিদের।
সীতাকুণ্ড, বায়েজিদ ও হালিশহর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামিসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
সোমবার (১৩ জুলাই) র্যাব-৭-এর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
গ্রেফতার হলেন যারা র্যাবের জালে ধরা পড়া ব্যক্তিরা হলেন-মামলার প্রধান আসামি মো. শামীম (৩৫), মো. সাজ্জাদ আলম শুভ (৩২) এবং মারুফ (২৭)।
এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার অভিযোগে সুমন (৩০) নামের আরও এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে শামীম, শুভ ও মারুফ এজাহারভুক্ত আসামি।
র্যাব জানায়, স্থানীয় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং পুরনো শত্রুতার জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয় আব্দুপাড়া এলাকার বাসিন্দা রিফাতকে।
গত ২৩ জুন সকালে পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি রিফাতকে অত্যন্ত কৌশলে বাসা থেকে ডেকে নেওয়া হয়।
সরল বিশ্বাসে বাড়ি থেকে বের হওয়া রিফাতকে দক্ষিণ কাট্টলীর আব্দুল সুফী চৌধুরী গ্যারেজসংলগ্ন তিন রাস্তার মোড়ে ঘেরাও করে ওত পেতে থাকা একদল যুবক।
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী শামীম তার সঙ্গে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে রিফাতের বাম পায়ের হাঁটুর ওপরে উপুর্যপরি আঘাত করেন। গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা রিফাতকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর নিহতের ভাই বাদী হয়ে পাহাড়তলী থানায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় বেশ কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাবের সাঁড়াশি অভিযান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।
গোয়েন্দা নজরদারির সূত্র ধরে রোববার (১২ জুলাই) দুপুরে সীতাকুণ্ডের জলিল টেক্সটাইল বাজার এলাকায় প্রথম অভিযান চালায় র্যাব।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীতাকুণ্ড থেকে প্রথমে মূল আসামি শামীম ও সাজ্জাদ আলম শুভকে গ্রেফতার করা হয়।
পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর পৃথক অভিযান চালিয়ে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বালুছড়া এলাকা থেকে মারুফকে এবং হালিশহরের মাইজপাড়া এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব জানায়, গ্রেফতার আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে পাহাড়তলী এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

