স্মৃতিস্তম্ভে নেই শহীদ ওয়াসিমের নাম, ক্ষোভ প্রকাশ করে যা বললেন চসিক মেয়র

প্রকাশিত: ১৬ জুলাই, ২০২৬ ১৭:২৯

জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের রক্তের ঋণ কোনোভাবেই শোধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তবে শহীদদের পরিবার ও আন্দোলনে আহত যোদ্ধাদের পুনর্বাসন এবং তাঁদের যথাযথ সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের নৈতিক দায়িত্ব বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

বুধবার সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে’ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে মেয়র এ কথা বলেন।

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম-সব ইতিহাসেই চট্টগ্রামের অবদান অনস্বীকার্য।

সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানেও চট্টগ্রামের মানুষের গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকার কথা স্মরণ করেন মেয়র।

তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম সবসময় দেশের যেকোনো আন্দোলন ও সংকটে বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে।

জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে চট্টগ্রাম থেকে তিনজন বীর সন্তান শহীদ হয়েছেন। আবু সাঈদসহ সারা দেশে অসংখ্য মানুষের এই আত্মত্যাগ জাতির বুকে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।”

স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে গিয়ে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় মেয়রের দৃষ্টিগোচর হয়।

জুলাই শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান শহীদ ওয়াসিম আকরামের নাম অন্তর্ভুক্ত না থাকায় তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিষয়টি দ্রুত সংশোধনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “যারা দেশের জন্য নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের নাম যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

এখানে কোনো শহীদের নাম বাদ পড়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আমি আশা করি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ভুলের সংশোধন করবেন।”

বক্তব্যে মেয়র বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের প্রতিটি শহীদ পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, তাঁদের পুনর্বাসন এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির কাজ চলমান রয়েছে।

মেয়র নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমি নিজে শহীদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সাথে দেখা করেছি। প্রধানমন্ত্রীও তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। একইভাবে দেশের প্রতিটি শহীদ ও আহত পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করা হচ্ছে।”

একই সাথে তিনি স্মৃতিস্তম্ভের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে কথা বলেন। বর্তমানে এটি জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকলেও, ভবিষ্যতে এর সুরক্ষায় কোনো সমস্যা হলে চসিক এর পূর্ণ দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত বলে জানান মেয়র।

নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাইয়ের আন্দোলনের প্রকৃত ইতিহাস কোনো ধরনের বিকৃতি ছাড়া তুলে ধরার আহ্বান জানান চসিক মেয়র।

দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে সব ধরনের বিভেদ ভুলে দেশের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার জন্য ‘জাতীয় ঐক্যের’ ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেন তিনি।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আবারও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অতীতের মতো ভবিষ্যতেও আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের যেকোনো প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি