মাদরাসা থেকে চঞ্চল পায়ে বাড়ি ফিরেছিল ছয় বছরের শিশু মো. আব্দুল্লাহ। সকালের আলো ফুটতেই পরিবারের প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র কিনতে মুখে হাসি নিয়ে বের হয়েছিল পাশের দোকানের উদ্দেশ্যে।
কিন্তু কে জানত, সেই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলোই ছিল তার জীবনের শেষ যাত্রা! সদাই নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হলো না আব্দুল্লাহর। পুকুরের শান্ত জল কেড়ে নিল নিষ্পাপ এই প্রাণটিকে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জলদি আস্করিয়াপাড়া এলাকায় ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা।
নিহত আব্দুল্লাহ ওই এলাকার মো. আব্দুল গফুরের ছেলে। সে স্থানীয় দক্ষিণ জলদি আস্করিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত আব্দুল্লাহর চাচা শাহ্ আলম মাঝি জানান, সকালে মাদরাসা থেকে এসে বাড়ি ফেরে আব্দুল্লাহ। এরপর ঘরের কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে স্থানীয় দোকানে যায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সে ফিরে না আসায় আমাদের সন্দেহ হয়। আমরা চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করি। একপর্যায়ে ঘরের পাশের পুকুরপাড়ে তার জুতো জোড়া দেখতে পাই।
পুকুরপাড়ে একজোড়া ছোট জুতো পড়ে থাকতে দেখেই অশুভ এক আশঙ্কায় বুক কেঁপে ওঠে স্বজনদের। এরপরই পুকুরের জলে নামেন তারা। একটু অনুসন্ধানের পরই স্বজনরা ভেসে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করেন অবচেতন আব্দুল্লাহকে।
তড়িঘড়ি করে তাকে উদ্ধার করে বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ! হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক জানান, শিশুটিকে সকালে হাসপাতালে আনা হলেও চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ফুটফুটে এই শিশুটির এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বিদায়ে পুরো দক্ষিণ জলদি আস্করিয়াপাড়া এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
যার কলকাকলিতে মুখরিত থাকার কথা ছিল বিদ্যালয়ের আঙিনা, আজ তার নিঃশব্দ প্রস্থানে স্তব্ধ স্বজন ও প্রতিবেশীরা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

