প্রথমে ভেবেছিলেন শিশুটি হয়তো পাইলসের সমস্যায় ভুগছে। যন্ত্রণায় কুঁকড়ে যাওয়া আট বছর বয়সি সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসকের চেম্বারে ছুটে গিয়েছিলেন বাবা-মা।
কিন্তু সেখানে গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক যে সত্যটি সামনে আনলেন, তাতে স্তব্ধ হয়ে গেল গোটা পরিবার।
চিকিৎসক স্পষ্ট জানালেন-এটি কোনো রোগ নয়, বরং শিশুটি দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসায় ঘটেছে এই বর্বরোচিত ঘটনা।
দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে গত এক বছর ধরে বলাৎকারের অভিযোগে মাদরাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার আজিজ উল্লাহ বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরন্দীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ ইলিয়াসের ছেলে।
ভয়াল সেই এক বছর চিকিৎসকের সন্দেহ প্রকাশের পর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
তখন অশ্রুসিক্ত চোখে অবুঝ শিশুটি উগরে দেয় গত এক বছরের জমে থাকা নরকযন্ত্রণার গল্প।
শিশুটি জানায়, মাদরাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ এবং তাকে এই অপকর্মে সহযোগিতা করা আরও তিন শিক্ষার্থী গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তার ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
লোকলজ্জা আর ভয়ের চাদরে ঢাকা ছিল আট বছরের এক নিষ্পাপ শিশুর আর্তনাদ।
ধামাচাপা দেওয়ার মরিয়া চেষ্টা
নৃশংস এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর তা আইনের আলোয় আসতে দিতে চায়নি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগ উঠেছে, ভুক্তভোগীর পরিবার যখন আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন মাদরাসার অন্য শিক্ষকেরা তাঁদের ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেন।
‘মামলা হলে মাদরাসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে’-এমন ঠুনকো ও বিভ্রান্তিকর অজুহাত দেখিয়ে পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তারা।
অপরাধীকে বাঁচানোর এই প্রাতিষ্ঠানিক চেষ্টা এলাকায় তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি অপরাধীদের। ঘটনাটি পটিয়া থানা পুলিশের কান পর্যন্ত পৌঁছামাত্রই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে মূল হোতা শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে।
তাকে আপাতত ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া এই অপকর্মে সহযোগিতা করা বাকি তিন শিক্ষার্থীকেও দ্রুত থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
ওসি আরও জানান, এই বর্বরোচিত ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
মামলা রুজু হওয়ার পর আজিজ উল্লাহসহ বাকিদের এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শিক্ষা আর ধর্মীয় মূল্যবোধের পবিত্র আঙিনায় শিক্ষকের এমন পৈশাচিক রূপ এবং তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা পটিয়াসহ দেশজুড়ে সচেতন মহলকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার এখন শুধু অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির অপেক্ষায় দিন গুনছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

