অবশেষে অবসান ঘটল দীর্ঘদিনের অপেক্ষার। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য দেশে প্রথমবারের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত বদলি কার্যক্রম।
এখন থেকে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদ থাকা সাপেক্ষে সমপদে আবেদনের মাধ্যমে নিজ কর্মস্থল পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন শিক্ষকরা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ জারি করা হয়েছে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আওতাধীন বেসরকারি স্কুল ও কলেজের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ক্ষেত্রেই এই নীতিমালাটি কার্যকর হবে।
যেভাবে পরিচালিত হবে পুরো প্রক্রিয়া
নতুন এই প্রক্রিয়ায় মাউশি প্রথমে নির্ধারিত সময়ে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্য পদের তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করবে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের আবেদন গ্রহণ, যাচাই-বাছাই, বদলির আদেশ জারি এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
শিক্ষাগত অভিজ্ঞতা: প্রথম নিয়োগের পর টানা অন্তত দুই বছর চাকরি সম্পন্ন করলে শিক্ষক বদলির যোগ্য হবেন। বদলি হওয়া নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদন করতে চাইলে সেখানেও ন্যূনতম দুই বছর কর্মরত থাকা বাধ্যতামূলক।
সর্বোচ্চ সীমা: একজন শিক্ষক তাঁর সমগ্র চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ ৩ বার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কোটা: একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ ২ জন শিক্ষক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বদলি হতে পারবেন। তবে একই বিষয় বা বিভাগের একাধিক শিক্ষক একই বছরে বদলি হতে পারবেন না।
পছন্দের তালিকা: আবেদনকারী প্রতিটি আবেদনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩টি পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।
আবেদন ও এলাকা নির্বাচন যেভাবে
নীতিমালা অনুযায়ী, আবেদনকারী শিক্ষক প্রথমত তাঁর নিজ জেলার শূন্য পদের বিপরীতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন।
নিজ জেলায় কাঙ্ক্ষিত পদ খালি না থাকলে, নিজ বিভাগের অন্য যেকোনো জেলায় আবেদন করা যাবে। এছাড়া বিশেষ বিবেচনায় স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থলের জেলা কিংবা দেশের অন্য যেকোনো জেলায় আবেদনের সুযোগ রাখা হয়েছে।
একাধিক আবেদন পড়লে অগ্রাধিকার পাবেন কারা?
কোনো একটি শূন্য পদের বিপরীতে একের অধিক আবেদন জমা পড়লে প্রার্থীর যোগ্যতা ও প্রাধিকার মূল্যায়নে নিচের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। নারী প্রার্থী, বর্তমান কর্মস্থল থেকে বাসস্থানের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল, এবং চাকরির জ্যেষ্ঠতা।
সতর্কতা: ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করা হলে তা সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে। সাময়িক বরখাস্ত বা ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকরা বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
বদলি-পরবর্তী শর্ত ও নিয়মাবলি
আর্থিক সুবিধা ও জ্যেষ্ঠতা: বদলি হলেও শিক্ষকের বিদ্যমান এমপিও, আর্থিক সুযোগ-সুবিধা ও চাকরির জ্যেষ্ঠতা সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকবে।
টিএ-ডিএ বা ভাতা প্রদান নয়: বদলি কোনো অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না এবং এর জন্য সরকার বা কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো টিএ-ডিএ (ভ্রমণ ও দৈনিক) ভাতা দেওয়া হবে না।
যোগদানের সময়সীমা: বদলির আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানকে শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে শিক্ষককে নতুন কর্মস্থলে যোগদান সম্পন্ন করতে হবে।
মাউশির প্রস্তুতি ও বর্তমান অবস্থা
সমগ্র বদলি কার্যক্রম নিষ্পত্তির চূড়ান্ত দায়িত্ব থাকবে মাউশির মহাপরিচালকের ওপর।
সার্বিক অগ্রগতি বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, অনলাইন আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। সফটওয়্যার সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ামাত্রই আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

