পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রারে চাঞ্চল্যকর ঘুষকাণ্ডের নেপথ্য কাহিনী

স্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন-নাম ফাঁস করে হেড ক্লার্কের স্বীকারোক্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৪৯

সরকারি ফি মাত্র ১৫ হাজার টাকা। দলিলেও ছিল না বিন্দুমাত্র আইনি ত্রুটি। অথচ দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য দাবি করা হয় নগদ দুই লাখ টাকা ঘুষ!

শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কৌশলী অভিযানে হাতেনাতে ধরা পড়ার পর এবার আদালতের কাঠগড়ায় প্রকাশ্যে এল সেই ঘুষকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর নেপথ্য কাহিনী।

ঘুষের দুই লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার হওয়া পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ের হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক সাফ জানিয়েছেন-সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের প্রত্যক্ষ নির্দেশেই তিনি ঘুষের সেই টাকা গ্রহণ করেছিলেন।

এর আগে বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে অভিযুক্ত কর্মচারীরা এই স্বীকারোক্তি দেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের খাসকামরায় দেওয়া জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ঘটনার বিশদ বিবরণ দেন।

তিনি জানান, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশেই দুই লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে হাতবদল হয়ে তার কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল।

অন্যদিকে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে উমেদার রূপণ দাশ জানান, তিনি বিগত প্রায় ১৫ বছর ধরে এই সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত রয়েছেন।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত এক আইনজীবীর মাধ্যমে। তিনি তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য চট্টগ্রাম আদালত ভবনে অবস্থিত পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান।

দলিল দুটিতে কোনো ভুল বা ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও ঘুষের দাবিতে ফাইল আটকে রাখা হয়। ১৫ হাজার টাকার সরকারি ফি-র বিপরীতে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়।

চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে আরও ২০ হাজার টাকা কমিশন হিসেবে দেওয়ার কথা নিশ্চিত হয়।

এমনকি দলিলদাতাদের একজন শারীরিকভাবে উপস্থিত হতে না পারায় তাঁর বাসায় গিয়ে ঘুষের টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

ঘুষের এই অনৈতিক দাবিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করে তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের জরুরি হটলাইন ১০৬ নম্বরে ফোন করে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর দুদকের একটি বিশেষ দল ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং ফাঁদ পাতে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে পরিকল্পনা অনুযায়ী ওই আইনজীবী ঘুষের টাকা পৌঁছে দিতে পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে যান।

ঘুষের দুই লাখ টাকা লেনদেনের মুহূর্তে ওঁৎ পেতে থাকা দুদকের একটি ক্ষিপ্র অভিযান দল হাতেনাতে গ্রেপ্তার করে সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে।

ঘুষের নগদ টাকাসহ তিনজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তারের পর তাঁদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি