হঠাৎই থমকে গিয়েছিল কুতুবদিয়ার বঙ্গোপসাগরীয় জলসীমা। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা। চট্টগ্রাম বন্দরের কুতুবদিয়া আলফা নোঙর এলাকার দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল দুটি বিশালাকার পণ্যবাহী জাহাজ-‘এমভি এপিজে শিরিন’ ও মাদার ভেসেল ‘এমভি এইচজি সিডনি’।
কিন্তু মুহূর্তের অসাবধানতা বা স্রোতের টানে ঘটে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, গভীর সমুদ্রে একে অপরের মুখোমুখি হয়ে ধাক্কা খেল জাহাজ দুটি।
হঠাৎ এই ধাক্কায় সৃষ্টি হয় চরম উৎকণ্ঠা। তবে স্বস্তির খবর হলো-তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি, হতাহত বা সমুদ্রে বিপজ্জনক কোনো তেল কিংবা বর্জ্য ছড়ানোর ঘটনা ঘটেনি।
অল্পের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর ও পার্শ্ববর্তী সামুদ্রিক পরিবেশ।
দুর্ঘটনার পরপরই দুই জাহাজের নাবিকরা চরম বুদ্ধিমত্তা ও দক্ষতার পরিচয় দেন। তারা মুহূর্তের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ‘জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা তথ্যকেন্দ্র’ বা ভিটিএমআইএস (VTMIS)-কে বিষয়টি অবহিত করেন।
বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ভিটিএমআইএস থেকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়, যার ফলে জাহাজ দুটি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে এসে নিজ নিজ নিরাপদ অবস্থানে স্থির হতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বহুজাতিক মাদার ভেসেল ‘এমভি এইচজি সিডনি’র বাম পাশের কাঠামোগত অংশে সামান্য ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ওই জাহাজের ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে বিশেষজ্ঞ দল দিয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জরিপ চালানো হচ্ছে। ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জাহাজ দুটির স্থানীয় প্রতিনিধি ও এজেন্সিকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম জানান, সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুতুবদিয়া আলফা নোঙর এলাকায় যাওয়ার পথে দুটি পণ্যবাহী জাহাজের মধ্যে সামান্য সংস্পর্শের ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই উভয় জাহাজ ভিটিএমআইএসকে সতর্ক করে এবং বর্তমানে দুটি জাহাজই সম্পূর্ণ নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে।
তিনি আরও যোগ করেন, একটি জাহাজের বাম পাশের কাঠামোর ক্ষতির মাত্রা জানতে কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। রিপোর্ট হাতে এলেই বিস্তারিত জানা যাবে। পুরো পরিস্থিতি এখন বন্দর কর্তৃপক্ষের সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
গভীর সমুদ্রে এমন আকস্মিক ঘটনা প্রায়শই বড় দুর্যোগের রূপ নেয়, তবে দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও কার্যকর নজরদারির কারণে আজ একটি সম্ভাব্য বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল দেশ।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


