চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীরে দেশের বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত নতুন মাছ বাজারে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন ব্যবসায়ীরা।
অভিযোগ, থানায় মামলা ও লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও চিহ্নিত চাঁদাবাজদের দৌরাত্ম্য থামছে না।
আজ বৃহস্পতিবার নগরীর মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন বাংলাদেশ জাতীয় মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সোলাইমান।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে লিজ নিয়ে এই মাছ বাজার প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে মাছ আসে এবং এখান থেকে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশেও মাছ রপ্তানি হয়। এতে যেমন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, তেমনি সরকার বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করছে।
তবে সম্প্রতি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে বাজারটির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সোলাইমানের ভাষ্য, নবান খান, আতিক মাঝি, ফারুক হোসেন ও নুরুল কবির মাঝিসহ ২০–২৫ জনের একটি দল নৌকা থেকে জোর করে টাকা আদায়, মাছ ছিনিয়ে নেওয়া, আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং লিজ নেওয়া জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণসহ বিভিন্ন অনিয়ম করে আসছে।
তিনি বলেন, “এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রটি ধ্বংসের চেষ্টা করছে। ফলে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে রয়েছেন, অনেকে আর মাছ নিয়ে এখানে আসতে চাইছেন না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, চাঁদাবাজরা কখনও সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে, আবার কখনও ওয়াকফ সম্পত্তির অজুহাত দেখিয়ে নৌকা ও ট্রাক থেকে ইচ্ছামতো টাকা আদায় করছে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাজারে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
এর ফলে বড় বড় নৌকা ও জাহাজে মাছ আনা কমে গেছে। অনেক ব্যবসায়ী বিকল্প বাজারে চলে যাচ্ছেন। এতে বাজারটির ঐতিহ্য যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি ব্যবসায়ীরাও আর্থিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
সোলাইমান বলেন, “বর্তমান সরকার সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। কিন্তু বাস্তবে আমরা তার প্রতিফলন পাচ্ছি না।”
তিনি প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সমিতির সদস্যদের নিয়ে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সমিতির মহাব্যবস্থাপক আশীষ কুমার বড়ুয়া, উপ-মহাব্যবস্থাপক আমীর হোসেন, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আলী আকবরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



