back to top

অনার্সপড়ুয়া সাদিয়ার স্বপ্নভরা জীবন থেমে গেল পুকুরঘাটে: শোকে স্তব্ধ গ্রাম

প্রকাশিত: ১০ জুন, ২০২৬ ১৩:৫৫

প্রতিদিনের মতোই ভোরে ঘুম থেকে উঠেছিলেন ফাহিমা তাসলিম সাদিয়া। দিনের শুরুতে নামাজের প্রস্তুতি নিতে ওযূ করার জন্য বাড়ির পাশের পুকুরঘাটে গিয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু সেই ভোরই হয়ে উঠল তাঁর জীবনের শেষ ভোর। কয়েক মুহূর্তের একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল এক সম্ভাবনাময় তরুণীর জীবন।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইলশা গ্রামের সিরাজ কাজীর বাড়িতে বুধবার ভোরে ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা।

নিহত ফাহিমা তাসলিম সাদিয়া (২২) স্থানীয়ভাবে পরিচিত ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মৌলানা হাফেজ ফরিদুল আলমের কন্যা। তিনি চট্টগ্রামের হাজ্বী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে ওযূ করার উদ্দেশ্যে বাড়ির পাশের পুকুরঘাটে যান সাদিয়া।

ধারণা করা হচ্ছে, ঘাটে নামার সময় পা পিছলে বা হোঁচট খেয়ে তিনি পানিতে পড়ে যান। সাঁতার না জানার কারণে তিনি আর নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি।

কিছুক্ষণ পর তাঁর ছোট বোন পুকুরে একটি দেহ ভাসতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের ডাক দেন। ছুটে আসেন স্বজনরা।

দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে ওপরে তোলা হলেও তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। পরিবারের বুকফাটা কান্নার মধ্যেই নিশ্চিত হয় সাদিয়ার মৃত্যুর খবর।

নিহতের নানা মাওলানা রশিদ আহমদ বলেন, “ভোরে ওযূ করতে গিয়েছিল সাদিয়া। সম্ভবত হোঁচট খেয়ে পানিতে পড়ে যায়। সে সাঁতার জানত না। পানিতে পড়ে আর উঠতে পারেনি।”

সাদিয়ার আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

প্রতিবেশীরা বলছেন, তিনি ছিলেন শান্ত, ভদ্র ও মেধাবী একজন শিক্ষার্থী। উচ্চশিক্ষা শেষ করে পরিবার ও সমাজের জন্য কিছু করার স্বপ্ন ছিল তাঁর। সেই স্বপ্নগুলো আজ অপূর্ণই থেকে গেল।

বুধবার সকাল থেকে নিহতের বাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সবার চোখে ছিল শোক আর অবিশ্বাস। যে মেয়েটিকে কয়েক ঘণ্টা আগেও হাসিমুখে দেখা গেছে, তার নিথর দেহ ঘিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা।

গ্রামের বাতাসে এখন শুধু শোকের দীর্ঘশ্বাস। বারবার ফিরে আসছে একটি প্রশ্ন—এত অল্প বয়সে, এত স্বপ্ন নিয়ে পথচলা শুরু করা একটি জীবন এভাবে কেন থেমে গেল?

ভোরের সেই পুকুরঘাট আজও নিঃশব্দ। কিন্তু সেখানে পড়ে আছে একটি পরিবারের আজীবনের বেদনা, আর অপূর্ণ থেকে যাওয়া এক তরুণীর অসংখ্য স্বপ্নের গল্প।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি