রুপালি পর্দার জাদুকরী অধ্যায়ের ইতি টেনে অবশেষে প্রেক্ষাগৃহে হাজির হলেন তামিল সুপারস্টার ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী বিজয়।
দীর্ঘ সাত মাসের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনয়জীবনের বহুল প্রতীক্ষিত শেষ চলচ্চিত্র ‘জন নায়গন’।
প্রিয় তারকাকে শেষবারের মতো পর্দার ক্যানভাসে দেখতে প্রেক্ষাগৃহগুলোতে উপচে পড়েছে ভক্তদের ভিড়।
আবেগ আর উন্মাদনার সেই তীব্র হাওয়া আছড়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সেও (সাবেক টুইটার)।
অভিনয়জীবনের শেষ ছবি হওয়ায় বিজয়কে নিয়ে দর্শকদের আবেগ ছিল আকাশচুম্বী। আর সেই আবেগের স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে মুক্তির প্রথম দিনের বক্স অফিস আয়ে।
প্রথম দিনের আয় ও প্রদর্শনীর চিত্র:
ভারতে মোট প্রদর্শনী: ১৩,০০০-এরও বেশি, ভারতে নেট আয়: ৪১ কোটি রুপি, ভারতে গ্রস আয়: ৪৮ কোটি ২৭ লাখ রুপি, বিদেশে গ্রস আয়: ৩০ কোটি রুপি, বিশ্বব্যাপী সর্বমোট আয়: ৭৮ কোটি ২৭ লাখ রুপি।
এইচ বিনোথ পরিচালিত এই অ্যাকশন-ড্রামা ছবিতে বিজয়কে দেখা গেছে ‘ভেত্রি কোন্ডান’ নামের এক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে।
গল্পের মূল মানবিক দিকটি গড়ে উঠেছে তাঁর দত্তক কন্যা ভিজিকে (মমিতা বাইজু) ঘিরে। ভিজিকে সেনাবাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন ভেত্রি।
কিন্তু ভিজি-র অতীতের গভীর মানসিক ট্রমা সেই পথকে ক্রমাগত কঠিন করে তোলে।
অন্যদিকে, গল্পে উত্তাপ ছড়াতে হাজির হন বলিউড অভিনেতা ববি দেওল। ভারতে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে আসা খলনায়ক ‘জন হিমলার’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি।
এর পর থেকেই শুরু হয় বিজয় ও ববি দেওলের মধ্যকার টানটান উত্তেজনার মুখোমুখি লড়াই।
ছবিটি মুক্তির পর এক্সে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। ভক্ত ও সাধারণ দর্শকদের মতে, পর্দায় বিজয়ের ক্যারিশম্যাটিক উপস্থিতি আগের মতোই চোখ ধাঁধানো।
বিশেষ করে বিজয়ের আবেগঘন অভিনয় এবং অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের আবহ সংগীত প্রেক্ষাগৃহে দারুণ মেজাজ তৈরি করেছে।
তবে গল্পের ধরন এবং দৈর্ঘ্য নিয়ে কিছুটা অসন্তোষও দেখা গেছে। প্রায় তিন ঘণ্টার দৈর্ঘ্য ছবির স্বাভাবিক গতিকে কিছুটা মন্থর করেছে বলে অনেকের অভিমত।
এক্সে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এক দর্শক লিখেছেন, খুবই গড়পড়তা ছবি। প্রথমার্ধ মোটামুটি, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্ল্যাশব্যাক কিছুটা বাঁচিয়েছে। কিন্তু তিন ঘণ্টার সিনেমা হিসেবে এটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে দীর্ঘ।
অন্য এক অনুরাগী ৫-এর মধ্যে ৩.২৫ রেটিং দিয়ে ছবিটিকে ‘বিনোদনমূলক’ উল্লেখ করে লেখেন-বিজয়ের সঙ্গে মমিতা বাইজুর অনস্ক্রিন রসায়ন এবং অনিরুদ্ধর সুর সিনেমাটিকে টেনে নিয়ে গেছে।
তবে খলনায়ক চরিত্রে ববি দেওল নিজের শক্তির সঠিক ছাপ ফেলতে পারেননি। ছবিটি কিছুটা ছোট হলে ভালো হতো বলেও মনে করেন তিনি।
তবে সব সমালোচনার পরও ছবির টাইটেল কার্ড, ইন্টারভ্যাল ব্লক এবং পোস্ট-ক্রেডিট দৃশ্যকে ছবির সেরা আকর্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।
তাঁর ভাষায়, থালাপতি বিজয়ের এই ঐতিহাসিক বিদায় উদ্যাপনের জন্য হলেও ছবিটি প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখা উচিত।
চিত্রনাট্যের কিছু সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও, ‘জন নায়গন’ কেবল একটি সিনেমা নয়-এটি বিজয়ের অভিনয় জীবনের সমাপ্তিতে ভক্তদের ভালোবাসার এক পরম প্রকাশ।
ত্রুটি-বিচ্যুতির ঊর্ধ্বে উঠে প্রিয় তারকাকে রুপালি পর্দায় শেষবারের মতো উদযাপন করতেই প্রেক্ষাগৃহে ভিড় জমাচ্ছেন কোটি কোটি অনুরাগী।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

