চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলগেট এলাকায় অস্ত্রসহ শীর্ষ মাদক কারবারি ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
সন্ত্রাসীদের অতর্কিত হামলায় দুই পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকাজুড়ে পুলিশ ও সন্ত্রাসীদের মধ্যে দফায় দফায় তীব্র গোলাগুলি ছড়িয়ে পড়ে, যা রূপ নেয় চরম আতঙ্কে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাত ১০টার দিকে খুলশী থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল আমবাগান রেলগেট এলাকায় রুদ্ধশ্বাস এই অভিযান পরিচালনা করে।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়েই ধরা পড়ার আশঙ্কায় আলমগীর ও তার সঙ্গীরা ক্ষিপ্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।
হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে ও ছুরিকাঘাত করতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই পুলিশ কনস্টেবল মারাত্মকভাবে জখম হন।
আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কনস্টেবল মুবিনুল ইসলামের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
জানা গেছে, মূল সন্ত্রাসী আলমগীরকে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে কাবু করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হলেও তার সহযোগীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পুলিশের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে।
জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় পাল্টাধাওয়া ও তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়।
মুহুর্মুহু গুলির বিকট শব্দে পুরো আমবাগান ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ও নিজেদের রক্ষায় স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং দোকানদাররা তড়িঘড়ি দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যান।
ঘটনার পর থেকে পুরো এলাকা থমথমে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের ধরতে পুরো আমবাগানজুড়ে জোরদার তল্লাশি অভিযান চালানো হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও সহকারী পুলিশ কমিশনার আমিনুর রশিদ অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে গোলাগুলির তীব্রতার মধ্যে অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, আমি বর্তমানে সরাসরি অভিযানে যুক্ত আছি। এলাকা নিয়ন্ত্রণে কাজ চলছে, এই মুহূর্তে বিস্তারিত বলার সুযোগ নেই। অভিযান শেষে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানানো হবে।
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গ্রেপ্তারকৃত আলমগীর চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার, আমবাগান, খুলশী ও রেলক্রসিং এলাকার মাদক ও অপরাধ জগতের অন্যতম প্রধান নিয়ন্ত্রক।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে সে দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় অস্ত্র, মাদক ও ছিনতাইয়ের সিন্ডিকেট চালিয়ে আসছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক থানায় অস্ত্র, ছিনতাই ও মাদকসহ বহু মামলা রয়েছে।
সিএমপির বিভিন্ন ইউনিট তাকে গ্রেপ্তারে দীর্ঘদিন ধরে তৎপর ছিল। অবশেষে এই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের মধ্য দিয়ে সিএমপির জালে ধরা পড়লো এই শীর্ষ সন্ত্রাসী।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

