এক ঘণ্টার মধ্যে ৫০ লাখ, নইলে লাশ: বার্তার পরই প্রবাসীর বাসায় প্রকাশ্য গুলি

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:১২

বাইরে তখন ঘোর অন্ধকার, এলাকায় চলছে লোডশেডিং। ঠিক সেই মুহূর্তে হঠাৎ ভেঙে গেল চেনা নীরবতা।

একজোড়া গুলির তীব্র শব্দে মুহূর্তেই থমকে গেল চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ব্যস্ত হামজারবাগ এলাকা। আতঙ্কে ঘরের কপাট বন্ধ করে দিলেন প্রতিবেশীরা।

নেপথ্যে সেই পুরনো আতঙ্ক-চাঁদাবাজি। ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে এবার এক প্রবাসী ব্যবসায়ীর বহুতল ভবনের মূল ফটক লক্ষ্য করে প্রকাশ্যেই চালানো হয়েছে গুলি।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার (১০ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে, হামজারবাগের ‘রুনা টাওয়ার’ নামে একটি ১১ তলা ভবনের সামনে।

ভবনটির মালিক চট্টগ্রাম ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোহাম্মদ ইউসুফ। তাঁর দুই ছেলে প্রবাসে সফল ব্যবসায়ী।

উল্লেখ্য, ইউসুফ নিষিদ্ধঘোষিত স্বেচ্ছাসেবক লীগের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান আজিজের শ্বশুর, যিনি গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।

ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী মো. আলমগীর জানান, রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগে প্যান্ট-শার্ট পরা দুই তরুণ ভবনের সামনে এসে দাঁড়ায়।

কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা আলমগীরকে ধাক্কা দিয়ে গেটের ভেতর ঠেলে দিয়ে বাইরের কপাট বন্ধ করতে বলে। এর পর মুহূর্তেই পকেট থেকে অস্ত্র বের করে মূল ফটক লক্ষ্য করে পরপর দুটি গুলি চালিয়ে বেশ স্বাভাবিক পায়ে হেঁটে চম্পট দেয়।

তবে এই গুলির প্রেক্ষাপট শুরু হয়েছিল ওই দিন দুপুরেই। ভবনমালিক ইউসুফ জানান, সোমবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁর প্রবাসী ছেলে শওকতের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে আসে একটি অচেনা বিদেশি নম্বরের ভয়েস মেসেজ।

বার্তায় তাঁদের পরিবারের কার কোথায় বাড়ি, কে কোন পথে যাতায়াত করেন-সব তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খ তুলে ধরে মাত্র এক ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়। দাবি করা হয় ৫০ লাখ টাকা।

আর এই টাকা না দিলে পুরো পরিবারকে প্রাণনাশের সরাসরি হুমকি দেওয়া হয়। হুমকি বার্তার ঠিক ১১ ঘণ্টার মাথায় রাতে ঘটে এই গুলির ঘটনা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, চাঁদা না পেয়ে ভবনের গেটে গুলি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চট্টগ্রামে ইদানীং চাঁদাবাজদের এই বেপরোয়া তাণ্ডব নতুন নয়। গত ১৩ জুলাই দক্ষিণ পাহাড়তলী এলাকায় ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে ২০ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে হামলা চালায় এক সন্ত্রাসী চক্র।

পরবর্তীতে একই চক্র নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২ কোটি টাকা চাঁদার দাবিতে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।

বারবার এমন সন্ত্রাসী হামলায় ব্যবসায়ী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়রা অবিলম্বে চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের মূল উৎপাটন ও কঠোর আইনি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি