পাহাড়ের কোল ঘেঁষে এক টুকরো ছায়া আর বুকভরা স্বপ্ন নিয়ে ঘর বেঁধেছিলেন জসিম উদ্দিন। কিন্তু টানা ভারী বর্ষণে সেই পাহাড়ই যে এক নিমেষে কালান্তক রূপ নেবে, তা হয়তো ভাবতেও পারেননি এই দম্পতি।
মঙ্গলবার দুপুরে প্রকৃতির এক নির্মম থাবায় চিরতরে হারিয়ে গেলেন জসিমের স্ত্রী নাসিমা আক্তার (২৭)।
মাটিচাপা থেকে অলৌকিকভাবে জসিম ও তাঁর সন্তান বেঁচে ফিরলেও, তাঁদের সংসারের আলো চিরতরে নিভে গেছে।
আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের দরিয়ানগর বড়ছড়া এলাকায় এই মর্মান্তিক পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই কক্সবাজারে টানা ভারী বর্ষণ হচ্ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে হুট করেই বড়ছড়া এলাকার একটি পাহাড়ের বিশাল অংশ ধসে পড়ে জসিম উদ্দিনের বসতঘরের ওপর।
মুহূর্তের মধ্যে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় আস্ত ঘরটি। ভেতরে তখন আটকা পড়ে আছেন নাসিমা, তাঁর স্বামী জসিম ও তাঁদের অবুঝ সন্তান।
পাহাড় ধসের শব্দ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকে। মাটি কেটে একে একে উদ্ধার করা হয় তিনজনকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে।
আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় জসিম উদ্দিন (৪০) ও তাঁর সন্তানকে হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় ছটফট করতে দেখছেন স্বজনরা।
কক্সবাজার সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা আক্তার জানান, “টানা বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে একটি বসতঘর চাপা পড়ে। এতে একই পরিবারের তিনজন আটকা পড়েছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক নাসিমা আক্তারকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।”
প্রতিবার পাহাড় ধসের পর যে চিরচেনা প্রশাসনিক তৎপরতা ও আক্ষেপের চিত্র দেখা যায়, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
ইউএনও তাহমিনা আক্তার জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের আগেই নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অনেকেই সেই নির্দেশনাকে গুরুত্ব দেননি।
নাসিমার এই অকালমৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন।
জানা গেছে, আজ বিকেলেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় উচ্ছেদ ও বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রশাসনের এই কড়া পদক্ষেপ হয়তো আরও কিছু প্রাণ বাঁচাবে, কিন্তু দরিয়ানগরের বড়ছড়া এলাকায় যে শূন্যতা তৈরি হলো, তা আর কোনোদিন পূরণ হবে না।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

