সংসদে মধ্যরাতে নাটকীয় কমিটি গঠন,সালাহউদ্দিনের কাঁধে সংবিধান সংস্কারের ভার!

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৪

রাষ্ট্রের মূল চালিকাশক্তি সংবিধানে বড় ধরনের পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দেশের সর্বোচ্চ আইন ‘সংবিধান’ সংশোধনের লক্ষ্যে ১২ সদস্যের একটি শক্তিশালী ও বিশেষ কমিটি গঠন করেছে জাতীয় সংসদ।

সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে সংসদ অধিবেশনে নাটকীয়ভাবে এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হয়।

নতুন গঠিত এই বিশেষ কমিটির সভাপতি করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে।

তবে রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হচ্ছে-১৭ সদস্যের এই কমিটিতে ৫টি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।

বিরোধী দলের নীরবতা ও ফাঁকা ৫ আসন

সংসদ সূত্রে জানা গেছে, সংসদ নেতা তারেক রহমানের পক্ষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম এই বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের সব রাজনৈতিক পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিটিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। সে লক্ষ্যে প্রধান বিরোধী দলকে তাদের পক্ষ থেকে ৫ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ জানানো হয়।

তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বিরোধী দল কোনো নাম না পাঠানোয়, তাদের জন্য নির্ধারিত ৫টি আসন ফাঁকা রেখেই ১২ সদস্যের কমিটি গঠন করতে হয়েছে।

সংসদের একটি দায়িত্বশীল সূত্র বলছে, বিরোধী দলের জন্য এই ৫টি আসন এখনো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। তারা চাইলে পরবর্তীতে এই কমিটিতে যুক্ত হতে পারবেন।

সংসদ সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, “সংবিধান সংশোধনের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সবার অংশগ্রহণ কাম্য। আমরা বিরোধী দলকে তাদের অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করার অনুরোধ করেছিলাম, কিন্তু তাদের সাড়া না পাওয়া সত্ত্বেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাজ শুরু করতে হচ্ছে।”

কারা আছেন এই ‘হাই-প্রোফাইল’ কমিটিতে?

কমিটির সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ছাড়াও এই বিশেষ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন সরকারের নীতি-নির্ধারক থেকে শুরু করে মাঠপর্যায়ের আলোচিত ও তরুণ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, বিএনপির সংসদ চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিন, মীর হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা, মাহমুদুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের সংসদ সদস্য জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য নুরুল হক নুর এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ।

কেন এই কমিটি এবং পরবর্তী ধাপ কী?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই কমিটির গঠন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কমিটিতে শুধু সরকারি দল বা মূল দল নয়, বরং জুনায়েদ সাকি, আন্দালিব রহমান পার্থ, এবং নুরুল হক নুরের মতো ভিন্ন ঘরানার রাজনৈতিক নেতাদের অন্তর্ভুক্তি এই ইঙ্গিত দেয় যে, সংবিধান সংশোধনে বহুমুখী মতামতের প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

আইন ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কমিটি এখন দেশের বিদ্যমান সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, উপধারা পর্যালোচনা করবে এবং দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষা ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রয়োজনীয় সংশোধনীগুলোর একটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করে সংসদে পেশ করবে।

বিরোধী দল শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় কি না এবং এই ১২ সদস্যের কমিটি সংবিধানের কোন কোন ঐতিহাসিক পরিবর্তন সামনে নিয়ে আসে-এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশের রাজনৈতিক মহল।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি