এআই দিয়ে তৈরি কোন ৩ ধরনের ভিডিওতে মিলবে না ইউটিউবের আয়

প্রকাশিত: ২২ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪২

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করে নিয়মিত নিজেদের চ্যানেলে প্রকাশ করছেন অনেকে। এসব ভিডিও প্রকাশ করে আয়ও করছেন কেউ কেউ।

তবে এআই দিয়ে তৈরি সব ধরনের ভিডিও থেকে আর আগের মতো আয় করা যাবে না। গণহারে তৈরি নিম্নমানের এআই কনটেন্টের বিস্তার ঠেকাতে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে ইউটিউব।

প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ‘ইন-অথেনটিক’ হিসেবে বিবেচিত তিন ধরনের ভিডিও ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম (ওয়াইপিপি) থেকে আর আয়ের সুযোগ পাবে না।

গণহারে তৈরি নিম্নমানের এআই কনটেন্ট নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি মৌলিক ও মানসম্মত ভিডিওকে উৎসাহিত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট নিয়ে ইউটিউবের নীতিমালা অবশ্য নতুন নয়। গত বছরও প্রতিষ্ঠানটি গণহারে (ম্যাস প্রডিউস) তৈরি ও পুনরাবৃত্তিমূলক (রিপিটেটিভ) ভিডিও থেকে আয়ের সুযোগ সীমিত করার ঘোষণা দিয়েছিল।

এবার হালনাগাদ নির্দেশিকায় ‘ইন–অথেনটিক কনটেন্ট’কে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে ইউটিউব।

ইউটিউবের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যেসব ভিডিও থেকে আয় করা যাবে না, সেগুলো হলো-

১. একই ধরনের বা পুনরাবৃত্তিমূলক ভিডিও

একই ধরনের বিষয়, কাঠামো বা উপস্থাপনা অনুসরণ করে বারবার তৈরি করা ভিডিও ইউটিউবের নতুন নীতিমালার আওতায় পড়বে।

বিশেষ করে গণহারে তৈরি ও পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্টের মাধ্যমে শুধু আয়ের উদ্দেশ্যে চ্যানেল পরিচালনা করলে আয় হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

২. দর্শকদের আবেগকে প্রভাবিত বা অস্বস্তিতে ফেলা ভিডিও

দর্শকদের আবেগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রভাবিত করা কিংবা তাঁদের অস্বস্তিতে ফেলার মতো কনটেন্টও ‘ইন-অথেনটিক’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ ধরনের ভিডিও কোনো চ্যানেলে অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে আয় বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

৩. স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থব্যবস্থা বা আইনি বিষয়ে মানবসদৃশ চরিত্রের ভিডিও

স্বাস্থ্য, চিকিৎসা, অর্থব্যবস্থা বা আইনি বিষয়ের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে মানবসদৃশ চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি ভিডিওও নতুন নীতিমালার আওতায় পড়বে।

এসব বিষয়ে এআই-নির্ভর মানবসদৃশ চরিত্র ব্যবহার করে তৈরি কনটেন্ট থেকে ইউটিউবের মাধ্যমে আয় করা যাবে না।

ইউটিউবের তথ্যমতে, ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রাম নির্মাতাদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস। বিজ্ঞাপন ও গ্রাহকভিত্তিক বিভিন্ন সেবার মাধ্যমে এই কর্মসূচি থেকে আয় করেন তাঁরা।

তাই এআই দিয়ে তৈরি নিম্নমানের ভিডিওতে প্ল্যাটফর্ম ভরে গেলে শুধু দর্শকদের অভিজ্ঞতাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, ইউটিউবের ব্যবসায়িক স্বার্থেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

টেলিভিশন ও বিভিন্ন ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে বিজ্ঞাপন আয়ের প্রতিযোগিতার মধ্যেও কনটেন্টের মান ধরে রাখাকে তাই অগ্রাধিকার দিচ্ছে ইউটিউব।

প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, গণহারে তৈরি নিম্নমানের ভিডিওর পরিবর্তে দর্শকদের জন্য মৌলিক, আকর্ষণীয় ও মানসম্মত কনটেন্টের বিস্তার ঘটানো।

ইউটিউব জানিয়েছে, কোনো চ্যানেলে এই তিন ধরনের কনটেন্টের যেকোনো একটি অতিরিক্ত পরিমাণে থাকলে চ্যানেলটি ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে আর আয় করতে পারবে না।

ফলে এআই ব্যবহার করে নিয়মিত ভিডিও তৈরি করা নির্মাতাদের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা।

এ বিষয়ে ইউটিউবের ট্রাস্ট অ্যান্ড সেফটি বিভাগের প্রধান ম্যাট হ্যালপ্রিন জানিয়েছেন, নীতিমালার এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য মূলত আয়ের জন্য তৈরি নিম্নমানের ভিডিওর বিস্তার কমানো।

তবে এআই দিয়ে তৈরি উন্নতমানের কনটেন্টগুলোকে ইউটিউব পার্টনার প্রোগ্রামে স্বাগত জানানো হবে।

অর্থাৎ, ইউটিউবের নতুন নীতিতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়নি। বরং এআইয়ের সাহায্যে গণহারে নিম্নমানের ও পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্ট তৈরির প্রবণতা ঠেকাতেই এই উদ্যোগ।

ফলে ভবিষ্যতে এআইনির্ভর ভিডিও নির্মাতাদের জন্য শুধু বেশি ভিডিও তৈরি করাই যথেষ্ট হবে না, বরং দর্শকদের জন্য মৌলিক, তথ্যবহুল ও মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির ওপরই দিতে হবে বেশি গুরুত্ব। সূত্র: টেক ক্র্যাঞ্চ