সদরঘাটের সেই অবুঝ শিশুর কান্না থামল আদালতে: লম্পট আক্তারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ২৬ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৩

চট্টগ্রামের ১০ বছরের এক নিষ্পাপ শিশুকে যৌন নির্যাতনের নির্মম অপরাধে মো. আকতার সর্দার (২৪) নামের এক যুবকের ঠাঁই হলো চার দেয়ালের বন্দিশালায়।

রোববার (২৬ জুলাই) চট্টগ্রাম মহানগরের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা আসামির উপস্থিতিতে এ যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন।

সাজাপ্রাপ্ত আকতার সর্দার সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার কুকড়াপর্শি এলাকার অধিবাসী।

ঘটনার সূত্রপাত ২০২২ সালের জুলাই মাসে। ভুক্তভোগী শিশুটি তখন স্থানীয় একটি স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

অভাবের সংসারে দিনমজুর মা-বাবা যখন পেটের তাগিদে বাইরে কাজ করতেন, ঠিক তখনই সুযোগ খুঁজত প্রতিবেশী যুবক আকতার সর্দার।

বিভিন্ন প্রলোভন ও ছোটখাটো জিনিস কিনে দেওয়ার নাম করে শিশুটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে সে।

২০২২ সালের ২ জুলাই দুপুরে বাসায় কেউ না থাকার সুযোগে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালায় আকতার।

ঘটনা শেষে কাউকে কিছু বললে একবারে মেরে ফেলার ভয় দেখায় সে। ভয়ে ও আতঙ্কে নিষ্পাপ মেয়েটি কয়েকদিন ঘটনাটি গোপন রাখে।

ভয় দেখিয়ে সত্যকে চাপিয়ে রাখা গেলেও শারীরিক যন্ত্রণা ঢাকা সম্ভব হয়নি। ঘটনার চারদিন পর, অর্থাৎ ৬ জুলাই বিকেলে মেয়েটি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবার কাছে ধরা পড়ে পুরো নির্মম ঘটনা।

আর এক মুহূর্তও দেরি না করে মা-বাবা মেয়েকে দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নিয়ে যান।

চিকিৎসা শুরুর পাশাপাশি ন্যায়ের লড়াইয়ে নামেন দিনমজুর বাবা। মামলা দায়ের করেন সদরঘাট থানায়।

পুলিশের সুনির্দিষ্ট তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ২১ নভেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

পরবর্তীকালে ২০২৪ সালের ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরু হয়।

গোপন ভয়ভীতি আর শত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ ঘোষিত হলো প্রতীক্ষিত বিচার।

ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মাহমুদ-উল আলম চৌধুরী মারুফ রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ধর্ষণের সুনির্দিষ্ট অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আসামি আকতার সর্দারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাকে সাজা পরোয়ানা মূলে সরাসরি কারাগারে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি