সীমান্ত এলাকা থেকে যেভাবে ধরাশায়ী হলেন চট্টগ্রামের অন্ধকার জগতের ত্রাস ‘ডেভিড ইমন’!

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৪:৪২

বন্দরনগরী চট্টগ্রামের অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যতম খলনায়ক ও দীর্ঘদিনের দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের শেষ রক্ষা আর হলো না।

দীর্ঘ রূপরেখা ও সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা নজরদারির পর বুধবার (২৯ জুলাই) যশোরের ঝিকরগাছা সীমান্ত এলাকা থেকে এক ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এর মাধ্যমে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আন্ডারওয়ার্ল্ডে এক বড় ধরনের ধস নামল বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, চট্টগ্রামকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে ডেভিড ইমন ও তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোগী রায়হানকে আইনের আওতায় আনতে দীর্ঘ দিন ধরে কাজ করছিল জেলা পুলিশের একাধিক চৌকস টিম।

অবিরাম নজরদারির ধারাবাহিকতায় বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত ঘেঁষা ঝিকরগাছা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমনকে কাবু করা সম্ভব হয়।

পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম বলেন, ডেভিড ইমন ও তার নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে আমাদের টিমগুলো নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছিল।

সেই ধারাবাহিক অভিযানেই তাকে সীমান্ত এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো অভিযানের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে।

একই সময়ে পুলিশের আরেকটি শক্তিশালী টিম নোয়াখালীতে সাঁড়াশি অভিযান চালায়। তবে সেখান থেকে চতুর সন্ত্রাসী রায়হান অল্পের জন্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, পালিয়ে গেলেও রায়হানের চারপাশের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তারের এই রোমাঞ্চকর নাটকের সূত্রপাত হয়েছিল গত রবিবার (২৬ জুলাই) রাতে। সেদিন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) নগরের অক্সিজেন-কুয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া এলাকায় একটি সফল অভিযান চালায়।

সেই অভিযানে চার রাউন্ড গুলি ও একটি আধুনিক বিদেশি পিস্তলসহ ডেভিড ইমনের দুই ডানহাত মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ এ বিষয়ে জানান, আসিফের কোমর থেকে একটি লোডেড বিদেশি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি। আরিফের কাছ থেকে আরও দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদে তারা দুজনেই স্বীকার করে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের নির্দেশেই তারা চট্টগ্রামজুড়ে অস্ত্রের মহড়া, প্রকাশ্য চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল।

সহযোগীদের গ্রেপ্তারের পর ইমনের পালানোর সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে সীমান্ত দিয়ে আত্মগোপন বা দেশত্যাগের চেষ্টার আগেই পুলিশের হাতে ধরা পড়তে হলো তাকে।

চট্টগ্রামের সুশীল সমাজ ও সাধারণ মানুষের মাঝে এই গ্রেপ্তারে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

পুলিশ ধারণা করছে, শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করলে চট্টগ্রাম অঞ্চলের একাধিক অপরাধ সিন্ডিকেট, অবৈধ অস্ত্রের উৎস এবং পেছনের মদদদাতাদের সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি