চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের অন্যতম আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর একাধিক মামলার আসামি মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করতে ফটিকছড়িতে এক ব্যাপক সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে জেলা পুলিশ।
গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। জেলা পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার রাতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কাছাকাছি কাঞ্চননগরে এই অভিযান অব্যাহত রেখেছিল পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, অভিযানের শুরুতে কৌশলী পদক্ষেপ হিসেবে ইমনের পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের মোবাইল ফোন নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
এরপর সেখান থেকে সংগৃহীত তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় মূল অভিযান শুরু করা হয়। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশের এই বিশেষ টিম এখনো ইমনের নাগাল পায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মো. মুসার ছেলে মোবারক হোসেন ওরফে ইমন ওরফে ডেভিড ইমন মূলত আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ‘ইন্টারপোল’-এর তালিকাভুক্ত ও বর্তমানে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর (বড় সাজ্জাদ) অন্যতম প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী।
দীর্ঘদিন ধরে সে দেশের বাইরে থাকা সাজ্জাদের নাম ভাঙিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, শিল্প গ্রুপ ও নানা প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের চাঁদাবাজি করে আসছিল। একই সঙ্গে পুরো অঞ্চলের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ছিল তার হাতে।
পুলিশ জানিয়েছে, ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের বাকলিয়ার বহুল আলোচিত জোড়া খুন এবং পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যাকাণ্ডসহ একাধিক চাঞ্চল্যকর মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছিল আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা।
সম্প্রতি নগরের চকবাজার এলাকার ‘ডিজিটাল ডট নেট’ (ডিডিএন) নামক একটি ইন্টারনেট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে নিজেকে ডেভিড ইমন পরিচয় দিয়ে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।
ব্যবসায়ী চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গত সোমবার (১৩ জুলাই) প্রকাশ্য দিবালোকে ২০-২৫ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল ওই অফিসে চড়াও হয়।
সন্ত্রাসীরা কার্যালয়টিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনের জন্য রাখা নগদ ৩৫ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
এই নৃশংস হামলার একটি সিসিটিভি ফুটেজ এবং চাঁদা দাবির অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছে,“চকবাজারের ইন্টারনেট অফিসে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা ও লুটপাটের ঘটনাটি কোনো সাধারণ অপরাধ নয়।
এটি পুরো আইনশৃঙ্খলার ওপর একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আসামিকে আইনের আওতায় আনতে জেলা ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।”
এই ধৃষ্টতাপূর্ণ ঘটনার পরই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডেভিড ইমনের নিজ এলাকা ফটিকছড়ির কাঞ্চন নগরে তার গোপন আস্তানার খোঁজে মাঠে নামে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম।
এলাকাটি অবরুদ্ধ করে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। অপরাধীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

