শিশু মারা গেছে, দাফনও শেষ!-দাদিকে দেওয়া হয়েছিল এমনই এক ছমছমে তথ্য। কিন্তু একজন পরম স্নেহময়ী দাদির মন সেই মিথ্যা মেনে নিতে পারেনি।
দেখতে চেয়েছিলেন নাতনির শেষ শয্যা অর্থাৎ কবরটি। আর তাতেই বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল!
কবর দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় বাধে চরম বিপত্তি, আর সেই সূত্র ধরেই উদঘাটিত হয় গা শিউরে ওঠা এক সত্য।
শিশুটিকে আসলে দাফন করা হয়নি, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও হাটহাজারী উপজেলায় ঘটেছে নাটকীয় এই ঘটনা। চাঞ্চল্যকর এই তথ্য ফাঁসের পর পুলিশি তৎপরতায় অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে এক মাস বয়সী সেই অবোধ কন্যাশিশুকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালখালীর পূর্ব চরণদ্বীপ এলাকার ১৮ বছর বয়সী সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মো. রাকিবের সাথে বিয়ে হয় একই এলাকার রোকসানা বেগমের (১৮)।
গত ২০ জুন এই দম্পতির কোল আলো করে জন্ম নেয় এক ফুটফুটে কন্যাসন্তান। সন্তান জন্মদানের কিছুদিন পর শিশুটিকে নিয়ে রোকসানা তার বাবার বাড়িতে বেড়াতে যান।
রহস্যের সূত্রপাত হয় গত ২৭ জুলাই। শিশুটির দাদি ফিরোজা বেগমকে জানানো হয়, তার এক মাস বয়সী নাতনি মারা গেছে এবং ইতোমধ্যে তাকে দাফনও করে ফেলা হয়েছে।
খবরটি শুনে শোকবিহ্বল দাদি ছুটে যান এবং নাতনির কবর দেখতে চান। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, মেয়ের পরিবারের সদস্যরা কবর দেখাতে ব্যর্থ হন এবং নানা অজুহাত দাঁড় করাতে থাকেন।
স্বজনদের এমন আচরণে দাদি ফিরোজা বেগমের মনে তীব্র সন্দেহের দানা বাঁধে। নাড়ির টান ও নাতনিকে হারানোর সংশয় নিয়ে তিনি সরাসরি দ্বারস্থ হন বোয়ালখালী থানায়।
ঘটনার গভীরতা অনুধাবন করে বোয়ালখালী থানা পুলিশ কালবিলম্ব না করে তদন্তে নামে। তদন্তের এক পর্যায়ে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য-শিশুটি মারা যায়নি! তাকে মাত্র ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে হাটহাজারীর এক নিঃসন্তান দম্পতির কাছে হস্তান্তরের নামে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে।
পরবর্তীতে শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে বোয়ালখালী থানা পুলিশের একটি চৌকস দল হাটহাজারী উপজেলার ‘বড় দিঘিরপাড়’ এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালায়। সেখান থেকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক মাসের ফুটফুটে শিশুটিকে।
রোববার (২ আগস্ট) সকালে যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরম মমতায় উদ্ধার করা শিশুটিকে তার মা-বাবার জিম্মায় তুলে দেয় পুলিশ। শিশুটিকে ফিরে পেয়ে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর হোসেন জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আমরা তদন্ত শুরু করি এবং হাটহাজারী থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে মা-বাবার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এই অমানবিক ঘটনার সাথে যারা সরাসরি জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একটি শিশুর হারিয়ে যাওয়া প্রাণ আর এক দাদির হার না মানা বুদ্ধিমত্তায় অবসান ঘটল একটি বড় অপরাধের। পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও দাদির সতর্কতায় এক মাসের অবোধ শিশুটি ফিরে পেল তার আসল নীড়।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

