নিত্যপণ্যের বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়ে মূল্য তালিকা না দেখে বিক্রেতার মুখের কথায় ভরসা করতে হয়। এমন অভিযোগ ক্রেতাদের দীর্ঘদিনের।
কিন্তু পণ্যের গায়ে বা দোকানে দৃশ্যমান স্থানে ঝুলানো মূল্য তালিকা যে কেবল কোনো ফরমালিটি নয়, বরং ক্রেতার মৌলিক অধিকার, তা আরও একবার কঠোরভাবে স্মরণ করিয়ে দিল জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম ব্যস্ত বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারে রোববার (২ আগস্ট) একটি ঝটিকা তদারকি অভিযান চালায় সংস্থাটি।
অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানে মূল্যতালিকা টানানোর আইনি বাধ্যবাধকতাকে তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
দাম গোপন রাখার এই প্রবণতা এবং তদারকিতে অনিয়ম ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বাজারটির ছয়টি ভিন্ন দোকানকে মোট ২০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে দেখা যায়, হাঁকডাক ছেড়ে পণ্য বিক্রি হলেও দোকানে ছিল না হালনাগাদ কোনো দরদাম বোর্ড।
এ অপরাধে বহদ্দারহাটের ‘মুন্না পোল্ট্রি’কে সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট স্থানে মূল্যসূচক প্রদর্শন না করায় রহিমের মুরগির দোকান, সেহাবিয়া পোল্ট্রি, মহাসেন আওলিয়া স্টোর, বিসমিল্লাহ মাংস বিতান এবং ভাই ভাই সবজি বিতান-এ পাঁচটির প্রতিটিকে ৩ হাজার টাকা করে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান শেষে চট্টগ্রাম অঞ্চলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফয়েজ উল্লাহ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, একজন সচেতন ক্রেতা বাজারে ঢুকে প্রথমত জানতে চাইবেন পণ্যের সঠিক দাম কত। এ তথ্য জানার আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে।
এ কারণে প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সহজে চোখে পড়ে-এমন স্থানে মূল্যতালিকা ঝুলিয়ে রাখা বাধ্যতামূলক। যারা আইন বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কেনাবেচা চালাবেন, তাদের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও সতর্ক করে জানান, সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থের সুরক্ষা দিতে, বাজারের কৃত্রিম অস্থিরতা রোধ করতে এবং কেনাকাটায় স্বচ্ছতা ফেরাতে নগরজুড়ে এমন ঝটিকা পরিদর্শন ও তদারকিমূলক অভিযান নিয়মিত বজায় থাকবে।
হঠাৎ এই প্রশাসনিক পদক্ষেপে একদিকে যেমন অসাদুপায় অবলম্বনকারী বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে, অন্যদিকে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা।
বাজারমুখী সাধারণ মানুষের দাবি-এ ধরনের মনিটরিং যেন কেবল একদিনের প্রদর্শনী না হয়ে সারা বছর সমান তালে বজায় থাকে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

