এবার সরোয়ারের আসন ঠেকাতে সর্বোচ্চ আদালতে জামায়াতের নুরুল আমীন

প্রকাশিত: ১২ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:০৭

নির্বাচন শেষ হয়েছে, জনগণের ভোটে বিজয়ী হয়ে ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে শপথ গ্রহণ। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের নাটকীয় মোড় যেন পিছুই ছাড়ছে না চট্টগ্রাম-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের।

হাইকোর্টে প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণার পর এবার সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেছেন তাঁরই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

তিনি জানান, লিভ টু আপিলে কেবল হাইকোর্টের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিতই চাওয়া হয়নি, বরং মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সরোয়ার আলমগীর যাতে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে না পারেন-সে বিষয়েও নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করা হয়েছে।

ফলে এ নিয়ে নতুন করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে চট্টগ্রাম-২ আসনের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

নির্বাচন প্রক্রিয়ার শুরুতেই সরোয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে বৈধ হিসেবে গৃহীত হলেও, পরবর্তীতে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপের অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন জামায়াতের প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীন।

শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট ইসির আদেশ স্থগিত করে তাঁকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের সেই আদেশের বিরুদ্ধে আবারও আপিল বিভাগে ছোটেন জামায়াত প্রার্থী। ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সারোয়ার আলমগীরকে ভোটে লড়ার অনুমতি বহাল রাখলেও একটি বড় শর্ত জুড়ে দেন-আদালতে আপিল চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখতে হবে।

পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী হন বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের সেই আদেশের বাধ্যবাধকতায় থমকে যায় তাঁর আনুষ্ঠানিক বিজয় ঘোষণা।

ফলাফল আটকে থাকার পর জামায়াত প্রার্থীর করা আপিলের শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ দ্রুততম সময়ে (দুই সপ্তাহের মধ্যে) হাইকোর্টে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন।

সেই নির্দেশনার ধারাবাহিকতায় গত ৯ জুলাই বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের আলোকেই ঐদিনই দ্রুততার সাথে শপথ গ্রহণ করেন সরোয়ার আলমগীর। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের দৃশ্যপট সেখানেই থেমে থাকেনি।

হাইকোর্টের সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে আবারও আপিল বিভাগে আবেদন ঠুকেছেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমীন।

এখন আদালতের সিদ্ধান্ত কোন দিকে মোড় নেয়, এবং সরোয়ার আলমগীরের সংসদ যাত্রা নির্বিঘ্ন থাকে নাকি নতুন কোনো আইনি স্থগিতাদেশ আসে-তা দেখতেই এখন চোখ চট্টগ্রাম-২ আসনের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধাদের।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি