ফ্রিজে বিষ,কেমিকেলযুক্ত খাবার বিক্রি: পাথরঘাটার তিন খাবারের প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

প্রকাশিত: ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৪১

খাবারের স্বাদে মাতিয়ে রাখার আড়ালে চট্টগ্রামে জনস্বাস্থ্য নিয়ে চলায় ছিনিমিনি। চট্টলার ঐতিহ্যবাহী এলাকা পাথরঘাটায় চোখ কপালে ওঠার মতো চিত্র উঠে এসেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক ঝটিকা অভিযানে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, খাবারে ক্ষতিকর কেমিকেলের ব্যবহার এবং ফ্রিজে একসঙ্গে কাঁচা ও রান্না করা খাবার রাখার মতো গুরুতর অপরাধে তিনটি নামিদামি প্রতিষ্ঠানকে গুনতে হয়েছে ৪০ হাজার টাকার জরিমানা।

সোমবার (২৪ আগস্ট) পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকায় অভিযানটি পরিচালনা করেন চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা।

চসিকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)-এর একদল চৌকস সদস্য এতে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

পাথরঘাটার মিরিন্ডা লেইন, বান্ডেল রোড ও ব্রিকফিল্ড রোড এলাকায় দিনভর চলে এ ভেজালবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান। পরিদর্শনের সময় যেসব জঘন্য চিত্র ভেসে ওঠে।

দূষিত ফ্রিজিং: কাঁচা ও রান্না করা খাবার একই ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, যা ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের অন্যতম কারণ। স্বাস্থ্যের হুমকি: মেয়াদবিহীন ও লেবেলবিহীন খাদ্যদ্রব্য বিক্রি এবং খাবারে নিষিদ্ধ রাসায়নিক উপাদানের মিশ্রণ। নোংরা পরিবেশ: অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে বেকারি পণ্য ও হোটেলের খাবার প্রস্তুত করার পাশাপাশি দোকানের সামনে জমে ছিল ময়লা-আবর্জনা।

এসব অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ম্যাজিস্ট্রেট তাত্ক্ষণিক আদেশে তিন প্রতিষ্ঠান থেকে জরিমানা আদায় করেন। এদের মধ্যে মিশুক রেস্তোরাঁ অ্যান্ড বিরানি হাউস (বান্ডেল রোড) সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা, চট্টলা হোটেল অ্যান্ড সুইটস (মিরিন্ডা লেইন) ১০ হাজার টাকা, এবং টেস্টি বেকারি (ব্রিকফিল্ড রোড)কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযান শেষে চসিকের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চৈতী সর্ববিদ্যা সাংবাদিকদের জানান, জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম অগ্রাধিকার।

খাবার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে যেকোনো ধরনের অনিয়ম ও অসাধুতার বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অবস্থান বিন্দুমাত্র শিথিল হবে না এবং এমন ঝটিকা অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

ভেজাল খাদ্য প্রস্তুতকারীদের এমন কঠোর বার্তা প্রদান করায় চসিকের এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি