বাইরে চকচকে আলোকসজ্জা ও মুখরোচক খাবারের পসরা, অথচ ভেতরের রান্নাঘরে বিচরণ করছে জীবন্ত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছারপোকা।
এমনই নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য তৈরির অপরাধে চট্টগ্রাম নগরীর নাসিরাবাদ এলাকার ‘সিটি রাজবাড়ী রেস্তোরাঁ’কে ৬ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগরীর ২ নম্বর গেট নাসিরাবাদ এলাকায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুমা আক্তার কণার নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্র জানায়, রেস্তোরাঁটির রান্নাঘর ও খাদ্য সংরক্ষণাগারে তল্লাশি চালিয়ে একের পর এক গুরুতর অনিয়ম ও অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
সেখানে ডালডা, কিসমিস, দুধ, মোরব্বা, তেল, মসলা এবং রুটি তৈরির খামির থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের মধ্যে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় জীবিত ও মৃত তেলাপোকা এবং ছারপোকা।
রেস্তোরাঁটির ভেতরের সার্বিক পরিবেশ ছিল অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর। ফ্লোর ছিল স্যাঁতস্যাঁতে এবং অনেক স্থানের টাইলস ভাঙা। ফ্রিজারের ভেতর কাঁচা ও রান্না করা মাংস একসঙ্গেই গাদাগাদি করে রাখা হয়েছিল।
বারংবার ব্যবহারের পোড়া তেল মজুদ, মেয়াদোত্তীর্ণ মোরব্বা সংরক্ষণ, অননুমোদিত ঘি ব্যবহার করে খাদ্য তৈরি এবং বিরিয়ানিতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর কেওড়াজল ব্যবহার করতে দেখা যায়। তাছাড়াও অভিযানের সময় রেস্তোরাঁটির হালনাগাদ কোনো ট্রেড লাইসেন্স দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।
এসব মারাত্মক অপরাধের প্রেক্ষিতে নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর ২৮ ও ৩৩ ধারায় সিটি রাজবাড়ী রেস্তোরাঁটির মালিকপক্ষকে ৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ জারি করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মেট্রোপলিটন কার্যালয় (চট্টগ্রাম), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক এবং সিএমপির পাঁচলাইশ থানা পুলিশের একটি দল।
জনস্বার্থে ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে নগরীতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


