নিষ্পাপ পেটে বিষের বোঝা: শিশুদের পেটেই ইয়াবা, চট্টগ্রামে চাঞ্চল্য

ভয়ংকর পাচারের কৌশল থামাল র‌্যাব

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৪৯

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে অপরাধী চক্রের নিষ্ঠুরতার নতুন এক ভয়ংকর রূপ দেখল দেশ।

মাত্র কয়েক হাজার টাকার লোভে জীবন চরম ঝুঁকিতে ফেলে পেটের ভেতরে কন্ডোম ও ক্যাপসুলে মুড়িয়ে সাড়ে সাত হাজারের বেশি ইয়াবা পাচার করছিল ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই অবুঝ শিশু।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-৭-এর একটি দল আনোয়ারা উপজেলার তৈলারদ্বীপে অভিযান চালিয়ে এক নারীসহ ওই দুই শিশুকে আটক করেছে।

পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ধাপে ধাপে শিশু দুটির পেট থেকে উদ্ধার করা হয় এই বিপুল পরিমাণ মাদক।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আনোয়ারার তৈলারদ্বীপে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রথমে এক্স-রে পরীক্ষার মাধ্যমে দুই শিশুর অন্ত্রে বিপুলসংখ্যক সন্দেহজনক বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত হন চিকিৎসকেরা।

এরপর চমেক হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পয়োনিষ্কাশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব ক্যাপসুল বের করে আনা হয়। পরবর্তী এক্স-রে রিপোর্টে তাদের পেট সম্পূর্ণ পরিষ্কার পাওয়া যায়।

র‍্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, একেকটি বিশেষ ক্যাপসুলে ৪০ থেকে ৫০টি করে ইয়াবা লুকানো ছিল। সব মিলিয়ে উদ্ধার করা ইয়াবার সংখ্যা সাড়ে সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছে।

আটক ওই নারীর সাথে শিশু দুটির রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই, তিনি কৌশল হিসেবে তাদের সাথে নিয়ে এসেছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শিশুরা জানায়, পাচারকারী চক্রের এক সদস্য তাদের জনপ্রতি মাত্র ৪ হাজার টাকা করে মোট ৮ হাজার টাকা দিয়েছিল।

চট্টগ্রামে চালানটি নিরাপদে পৌঁছে দিতে পারলে আরও টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, এই বিপজ্জনক উপায়ে তারা এর আগেও দুইবার চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান নিয়ে এসেছিল।

দুই শিশু বর্তমানে শারীরিকভাব সুস্থ ও চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে থাকলেও এই পদ্ধতিকে অত্যন্ত জীবনঘাতী বলে সতর্ক করেছেন চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান।

তিনি জানান, প্লাস্টিক বা কন্ডোমে পেঁচিয়ে এভাবে বিষাক্ত মাদক গিলে বহন করা চরম ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো কারণে পাকস্থলী বা অন্ত্রে একটি ক্যাপসুলও ফুটো হয়ে গেলে মুহূর্তের মধ্যে তীব্র বিষক্রিয়া (ওভারডোজ) সৃষ্টি হয়ে বহনকারীর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হতে পারে।

র‍্যাব জানিয়েছে, শিশু দুটি হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে এই চক্রের মূল হোতাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে।

এ বিষয়ে সোমবার সংবাদ ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি