অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণ থেকে শুরু করে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যাংক এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সংস্থার পর্ষদ-সবখানেই যিনি নিজের মেধা ও দক্ষতার অনন্য স্বাক্ষর রেখে গেছেন, সেই বীরপ্রতীকসম প্রশাসনিক ব্যক্তিত্ব অরিজিৎ চৌধুরী আর নেই।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক এই অতিরিক্ত সচিব।
দেশের আর্থিক খাত ও প্রশাসনিক পরিমণ্ডলে অত্যন্ত সৎ, দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন অরিজিৎ চৌধুরী। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার কধুরখীল গ্রামে।
তার দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য কর্মজীবনে তিনি কেবল সরকারের নীতি প্রণয়ন বা প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার প্রতিটি বাঁকে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।
সরকারি সেবার পাশাপাশি রূপালী ব্যাংক লিমিটেড, বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড এবং সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (এসডিএফ) পরিচালনা পর্ষদে ডিরেক্টর হিসেবে তিনি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূল ভূমিকা পালন করেন।
এ ছাড়া আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক এবং নেপাল বাংলাদেশ ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদে তার মেধা ও নেতৃত্ব প্রশংসিত হয়েছে সর্বত্র।
বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাস বিভাগ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন এবং ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন স্ট্র্যাটেজি পিয়ার লার্নিং গ্রুপে তার সক্রিয় উপস্থিতি সহকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাত। শুধু ব্যাংকিং বা আর্থিক খাতই নয়, সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও তিনি ছিলেন অনন্য।
নিউরো-ডেভেলপমেন্ট প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এবং স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজ (এসএমই) ফাউন্ডেশনের পর্ষদ ও প্রশাসনিক কমিটিতে থেকে তিনি প্রান্তিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠীর কল্যাণে কাজ করে গেছেন।
শিক্ষাজীবনেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে।
সেখানে খ্যাতনামা বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উন্নয়ন অর্থায়নে (Development Finance) স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন, যা পরবর্তীকালে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি তৈরিতে তাকে বিশেষ পারদর্শিতা এনে দেয়।
অরিজিৎ চৌধুরীর আকস্মিক বিদায়ে দেশের প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি হলো। সহকর্মী থেকে শুরু করে শুভাকাঙ্ক্ষীরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করছেন এই মেধানীড় ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষটিকে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


