বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ (হালিশহর কার্যালয়)-এর উপপরিচালক (ডিডি) প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের বিরুদ্ধে নথিপত্র জালিয়াতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যাপক আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে পদ থেকে অপসারণ, চট্টগ্রাম থেকে সাময়িক বদলি এবং নথি নিরাপত্তার দাবিতে বিআরটিএ চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সিএনজি অটোরিকশা হালকাযান পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন গত ৩১ আগস্ট ও পরবর্তীতে লিখিতভাবে এই অভিযোগ দাখিল করেন।
আবেদনটির অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিবকেও পাঠানো হয়েছে।
লিখিত আবেদনে বলা হয়, উপপরিচালক প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদে চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১-এ যানবাহন প্রতিস্থাপন, নতুন নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন, আমদানি-সংক্রান্ত নথি জালিয়াতি এবং বিধিবহির্ভূতভাবে স্লিপার বাস অনুমোদনসহ নানা কার্যক্রমে অনিয়ম ও অবৈধ আর্থিক লেনদেন চলছে।
অভিযোগকারী মো. জহির উদ্দিন জানান, অনিয়মের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় তাঁকে কেন্দ্র করে বিআরটিএ এলাকায় উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের পরিবেশ বজায় রাখা এবং আবেদনকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দুর্নীতির মূল সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি বিআরটিএর সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম, সরকারি নথি ও ডিজিটালাইজড রেকর্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা স্বপদে বহাল থাকলে ডিজিটাল রেকর্ড, নথি, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সম্ভাব্য সাক্ষীদের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গক্রমে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম বিআরটিএ বিভাগীয় কার্যালয়ে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আবেদনে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
তদন্ত সুষ্ঠু রাখতে পুরোনো প্রতিস্থাপন, স্ক্র্যাপিং, নিবন্ধন ও মালিকানা পরিবর্তনসংক্রান্ত সকল গুরুত্বপূর্ণ নথি, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ডিজিটাল রেকর্ড অবিলম্বে সুরক্ষিত হেফাজতে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
পাশাপাশি তদন্ত চলাকালীন প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনকে চট্টগ্রাম থেকে অন্যত্র সাময়িকভাবে সংযুক্ত বা বদলি করার দাবি জানানো হয়।
মো. জহির উদ্দিন অভিযোগ করেন, অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ অভিযুক্ত কর্মকর্তা কতিপয় আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডেও ব্যবহার করছেন।
তিনি বলেন, অভিযোগ দায়েরের পর থেকেই আমাকে নানাভাবে চাপের মুখে রাখা হচ্ছে। তৌহিদুল হোসেন এই পদে বহাল থাকলে সুষ্ঠু তদন্ত সম্ভব নয়।
অভিযুক্ত কর্মকর্তার অপসারণ ও কঠোর শাস্তির দাবিতে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বিভাগীয় কার্যালয় ঘেরাওসহ পরবর্তী কঠোর কর্মসূচির আল্টিমেটাম দেওয়া হবে বলে পরিবহন শ্রমিক নেতারা জানান।
অভিযোগের বিষয়ে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম মেট্রো সার্কেল-১ (হালিশহর কার্যালয়)-এর উপপরিচালক (ডিডি) প্রকৌশলী তৌহিদুল হোসেনের মুঠোফোনে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে তার কোন বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


