ভাই প্রাণটা নিয়েন না, দিচ্ছি!

কোতোয়ালীর পেছনে রিকশা থামিয়ে দুর্ধর্ষ ছিনতাই, ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:৩১

ভয় ও আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছেন এক যাত্রী। দুই পাশ থেকে ধারালো ছুরি উঁচিয়ে ঘিরে ধরেছে দুই যুবক।

প্রাণ বাঁচাতে বাধ্য হয়ে যাত্রী কেবল আকুতি করছেন-“দিচ্ছি, দিচ্ছি…”! আশপাশে অনেকেই দাঁড়িয়ে দেখছেন, কিন্তু আতঙ্কে কেউ সামনে এগোনোর সাহস পাচ্ছেন না।

এমনই এক গা শিউরে ওঠার মতো দৃশ্য দেখা গেল চট্টগ্রাম নগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোতোয়ালী থানার ঠিক পেছনের সতীশ বাবু লেইনে।

দিনদুপুরে রিকশার গতিরোধ করে অস্ত্রের মুখে এক যাত্রীর টাকা-পয়সা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার একটি দৃশ্য এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে মাত্র ২৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই তা ভাইরাল হয়ে যায়।

তবে শিউরে ওঠার মতো এই দুর্ধর্ষ ছিনতাইয়ের ঘটনাটি ঠিক কবে এবং কখন ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

ভিডিওতে যা দেখা গেছে:
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, নীল রঙের ফুলহাতা শার্ট ও জিন্স পরা এক যুবক এবং কালো প্যান্টের সঙ্গে সাদা টি-শার্ট পরিহিত আরেক যুবক হঠাৎ এক রিকশার পথ রোধ করে। দুজনের হাতেই চকচক করছে ধারালো ছুরি।

রিকশার দুই পাশে অবস্থান নিয়ে তারা যাত্রী ভদ্রলোকের পকেটে হাত ঢুকিয়ে জোরপূর্বক নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন বের করে নেয়।

এ সময় অস্ত্রের মুখে চরম আতঙ্কিত অবস্থায় ওই যাত্রীকে প্রাণভয়ে ‘দিচ্ছি, দিচ্ছি’ বলে আকুতি জানাতে শোনা যায়।

ঘটনার আকস্মিকতায় রিকশাচালক সম্পূর্ণ অসহায় হয়ে বসে ছিলেন। সামান্য দূরে দাঁড়িয়ে এক তরুণ পুরো দৃশ্যটি দেখলেও ছিনতাইকারীদের হাতে ধারালো অস্ত্র থাকায় ভয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি।

লুটপাট শেষে বুক ফুলিয়ে দ্রুত সটে পড়ে দুই ছিনতাইকারী। পাশে থাকা এক ভবনের বাসিন্দার মোবাইলে বন্দি হয় পুরো দৃশ্যটি।

জনমনে উদ্বেগ ও নানা প্রশ্ন:
চট্টগ্রাম নগরের প্রাণকেন্দ্র এবং অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক থানা কোতোয়ালী। সেই থানার ঠিক পেছনের সড়কে কীভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মুখে এমন দুর্ধর্ষ ছিনতাই ঘটতে পারে-তা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে বড় ধরনের প্রশ্ন।

ঘটনার সত্যতা ও পুলিশের পদক্ষেপ জানতে শনিবার কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জায়েদ নূরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

পরবর্তীতে থানার ডিউটি কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আসমা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি সকাল ৮টায় ডিউটিতে এসেছি। সতীশ বাবু লেইনে ছিনতাইয়ের এমন কোনো ঘটনা বা অভিযোগের বিষয় আমার জানা নেই।

ভিডিওটি নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, ছিনতাইয়ের শিকার সেই ভুক্তভোগী যাত্রীর পরিচয় কিংবা তাঁর হারিয়ে যাওয়া অর্থ ও মালামালের সঠিক পরিমাণও এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

তবে জনমনে এখন একটাই দাবি-ভিডিও ফুটেজ দেখে দ্রুত এই অস্ত্রধারী অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা হোক।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি