নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে মুহূর্তের অসাবধানতায় নিভে গেল ১২ বছরের এক চঞ্চল শিশুর জীবনপ্রদীপ। স্বজনদের হাসিমুখ আর আনন্দের গুঞ্জন নিমিষেই রূপ নিল বুকফাটা কান্নায়।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে পুকুরে ডুবে আয়াতুল ইসলাম সায়হান নামে এক মাদরাসা শিক্ষার্থীর করুণ মৃত্যু হয়েছে।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নে হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনা ঘটে।
অকালপ্রয়াত সায়হান উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যৈষ্ঠপুরা ফতেয়াকীল এলাকার প্রবাসী ওসমানের মেজো ছেলে।
সে স্থানীয় ‘ফতেয়ারখীল আল্লামা হাফেজ মুহাম্মদ বজলুর রহমান (রহ.) সুন্নিয়া নূরানী ইবতেদায়ি মাদরাসা’র পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পড়াশোনায় যেমন মনোযোগী ছিল, তেমনি তার হাসিখুশি আচরণে সে সবার প্রিয়পাত্র ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্বজন সূত্রে জানা যায়, চরণদ্বীপ ইউনিয়নে নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল সায়হান। রোববার দুপুরে আর দশটা দিনের মতোই সমবয়সীদের সাথে নানার বাড়ির পুকুরে গোসল করতে নামে সে।
কিন্তু সাঁতার না জানা বা পানির গভীরতা বুঝতে না পারায় একপর্যায়ে সে পুকুরের পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে অনেকক্ষণ দেখতে না পেয়ে স্বজনদের সন্দেহ হয় এবং পরে পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়।
দ্রুত সায়হানকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. কান্তা অধিকারী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসান চৌধুরী বলেন, সায়হান তার নানার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনার শিকার হয়। গোসল করতে নেমে পুকুরে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এমন অবুঝ শিশুর অকাল মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
একদিকে সুদূর পরবাসে থাকা প্রবাসী বাবার বুকভাঙা আহাজারি, অন্যদিকে একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে মা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস।
যে বয়সে হাতে বই-খাতা নিয়ে সহপাঠীদের সাথে মাদরাসায় যাওয়ার কথা ছিল, সেই বয়সে সায়হানের এমন প্রস্থান মেনে নিতে পারছেন না কেউই।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি


