খেলাধুলা ডেস্ক : চলতি বছর ফিফা বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম অনিশ্চয়তা।
বুধবার দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমেদ দোনিয়ামালি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রে সহ-আয়োজিত বিশ্বকাপে ইরানের অংশ নেওয়া সম্ভব নয় হতে পারে।
তার মন্তব্যের পর প্রথমবারের মতো বড় কোনো টুর্নামেন্ট থেকে দল প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।
ক্রীড়ামন্ত্রী দোনিয়ামালি বলেছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ইরানের জন্য বাস্তবসম্মত নয়।
তবে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ফলে পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছে ফিফা।
কারণ আগামী জুনে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপে ইরানের খেলার সূচিও এরই মধ্যে নির্ধারিত।
সূচি অনুযায়ী, ১৫ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরানের প্রতিপক্ষ হওয়ার কথা নিউ জিল্যান্ড।
দোনিয়ামালির বক্তব্যের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছিলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে আশ্বস্ত করেছেন- যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত বিশ্বকাপে খেলতে ইরানকে স্বাগত জানানো হবে।
ইরান যদি শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ায়, তাহলে বিশ্বকাপের নিয়ম অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে ফিফা।
টুর্নামেন্টের বিধির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো দল প্রত্যাহার করলে সংস্থাটি চাইলে অন্য কোনো দেশকে ডাকতে পারে। এমনকি একই মহাদেশ থেকে দল নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই।
ফিফার সাবেক ফুটবল রেগুলেটরি পরিচালক জেমস কিচিং বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আধুনিক ফুটবলে এমন ঘটনার নজির নেই।
তার মতে, কোনো দল সরে দাঁড়ালে কাকে নেওয়া হবে বা আদৌ কাউকে নেওয়া হবে কি না- এ সিদ্ধান্ত পুরোপুরি ফিফার হাতে।
নিয়ম অনুযায়ী দল প্রত্যাহার করলে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও রয়েছে।
যদিও বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান সরে দাঁড়ালে ফিফা শাস্তি দেবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কিচিং।
এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বে গ্রুপ ‘এ’ চ্যাম্পিয়ন হয়ে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয় ইরান।
তাই শেষ পর্যন্ত যদি তাদের জায়গা খালি হয়, তাহলে এশিয়া থেকেই নতুন কোনো দল নেওয়ার সম্ভাবনাই বেশি- তবে সেটিও সহজ সিদ্ধান্ত হবে না।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি



