back to top

শাহেদ কোথায়?-“আমার ছেলেটাকে ফিরিয়ে দিন”

সীতাকুণ্ডে নিখোঁজ ছেলেকে ঘিরে কান্না আর আশঙ্কা

প্রকাশিত: ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৬:১০

সিটিজি নিউজ টুডে : প্রতিদিন দরজার দিকে তাকিয়ে থাকি,যদি হঠাৎ আমার ছেলেটা ফিরে আসে।-কথাগুলো বলতে বলতে কণ্ঠ ভারী হয়ে আসে শাহিনা আক্তার লিপির।

গেল ১২ দিন ধরে নিখোঁজ তার ছেলে সায়েম শাহেদ ভূঁইয়া (১৫)। শাহেদ সীতাকুণ্ড উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাশেমনগর এলাকার আনোয়ার শাহেদ ভূঁইয়া ও শাহিনা আক্তার লিপির ছেলে। সে স্থানীয় বাড়বকুণ্ড উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র।

সময় যেন থমকে আছে এই পরিবারের জন্য। উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের হাশেমনগর এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন—শাহেদ কোথায়?

গত ৩১ মার্চ রাত ৮টার দিকে মসজিদে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শাহেদ।

সেই যে বের হলো, আর ফেরেনি। প্রথমে ভেবেছিলেন, হয়তো কোথাও বন্ধুর কাছে গেছে। কিন্তু রাত বাড়তে থাকলে শুরু হয় উৎকণ্ঠা, তারপর আতঙ্ক।

বাবা আনোয়ার শাহেদ ভূঁইয়া ছুটেছেন এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায়। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, আশপাশের এলাকা—কোথাও মেলেনি কোনো খোঁজ।

“যেখানে শুনেছি, সেখানেই গেছি… কিন্তু আমার ছেলেকে পাইনি,”—বলছিলেন তিনি।

পরদিন থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। কিন্তু দিন গড়িয়েছে, রাত কেটেছে—শাহেদ আর ফেরেনি।

ঘরের এক কোণে পড়ে থাকা তার বই, খাতা আর স্কুল ব্যাগ যেন নীরবে প্রশ্ন করে—সে কি আর ফিরবে?

এর মধ্যেই শুরু হয়েছে নতুন এক মানসিক যন্ত্রণা। অচেনা নম্বর থেকে ফোন আসে—“ছেলেকে ফেরত চাইলে টাকা দিতে হবে।”

কিন্তু এসব কথায় ভরসা পাচ্ছেন না পরিবার। বরং প্রতিটি ফোনকল তাদের ভয়ের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

পুলিশ বলছে, এটি প্রতারক চক্রের কাজ হতে পারে। পরিবারকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, আর শাহেদকে খুঁজে বের করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে এসব আশ্বাসে খুব একটা সান্ত্বনা পাচ্ছেন না মা। তার একটাই কথা—“আমি শুধু আমার ছেলেকে চাই… ও যেন ফিরে আসে।”

এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আলমগীর জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে।

পরিবারকে প্রতারকদের ফাঁদে পা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি নিখোঁজ কিশোরকে উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শাহেদের পরিবারের আকুতি—“আমাদের ছেলেটাকে যেন দ্রুত খুঁজে দেওয়া হয়।”

সীতাকুণ্ডের একটি সাধারণ পরিবারের এই অসাধারণ দুঃখ এখন পুরো এলাকার মানুষকে নাড়া দিচ্ছে। প্রতিবেশীরাও অপেক্ষায়—কখন সেই ছেলেটা আবার হেঁটে ফিরবে নিজের বাড়িতে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি