বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) প্রশাসনিক পদক্ষেপের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ঘটনার জেরে এবার খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
একই সঙ্গে খুলশী ও বাকলিয়া থানায় নতুন দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ রদবদল আনা হয়েছে।
শনিবার সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওসি মো. আরিফুর রহমানকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মান। অন্যদিকে সিটিএসবির নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক জাহেদুল আলমকে বাকলিয়া থানার নতুন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
নাঈম হাসানকে ঘিরে আলোচিত ঘটনার পর সিএমপির এই পদক্ষেপকে প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে একই ঘটনায় অভিযুক্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল মো. রাসেলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
ঘটনার তদন্তে ইতোমধ্যে একজন উপ কমিশনারের (ডিসি) নেতৃত্বে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সিএমপি। কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্তের অগ্রগতি ও প্রতিবেদনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, ঘটনায় পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করেছে পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, বিমানবন্দর থেকে ফেরার পথে লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে নাঈম হাসানকে বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশার গতিরোধের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং নিজেকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় পোশাকধারী কয়েকজন পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি উপস্থিত সোহেলের বিরুদ্ধেও মারধরের অভিযোগ ওঠে।
পরে পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে তিনি তা দেখাতে না পারায় স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে খুলশী থানায় নিয়ে যান।
এ ঘটনায় নাঈম হাসানের বড় ভাই কামরুল আলম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলায় মোহাম্মদ সোহেলকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। অপর দুই আসামি হলেন এসআই শফিকুল ইসলাম ও কনস্টেবল রাসেল।
ঘটনাটি সামনে আসার পর ক্রীড়াঙ্গন থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবখানেই ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারকে ঘিরে এমন অভিযোগ পুলিশের ভূমিকা ও মাঠপর্যায়ের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সেই প্রেক্ষাপটে একের পর এক প্রশাসনিক পদক্ষেপকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
এখন নজর তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকে। কারণ, সেই প্রতিবেদনের ওপরই নির্ভর করছে আলোচিত এই ঘটনায় দায় নিরূপণ এবং পরবর্তী আইনগত ও বিভাগীয় ব্যবস্থার পথরেখা।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

