‘রাজনৈতিক ডিগবাজি’: বোয়ালখালীর ফ্যাসিষ্টরাই এখন বিএনপির নেতৃত্বে যেতে চায় !

প্রকাশিত: ০৩ জুলাই, ২০২৬ ০৩:১২

বোয়ালখালী প্রতিনিধি: 

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে এক শ্রেণির রাজনৈতিক ‘ডিগবাজি’ ও অনুপ্রবেশের হিড়িক পড়েছে। গত ১৬ বছর ধরে আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় থেকে যারা বিরোধী মতের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, তাদের অনেকেই এখন নতুন পরিচয় নিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও এর অঙ্গসংগঠনের ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছে। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের মো: হোসেন মুজিবের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এই উদ্বেগজনক প্রবণতারই একটি নগ্ন উদাহরণ।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রমতে, মো: হোসেন মুজিব দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে চরণদ্বীপ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষকলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিগত সরকারের আমলে তিনি এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গ্রেপ্তারের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে স্থানীয় বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের তালিকা তৈরি করে পুলিশকে ধরিয়ে দিয়েছিলেন।

শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, তার বিরুদ্ধে সরকারি সার ও কৃষি প্রণোদনা আত্মসাৎ, মৎস্য পুকুর দখল এবং পারিবারিক সম্পত্তির ওপর নির্যাতনের অভিযোগও দীর্ঘদিনের। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বোয়ালখালী থানায় নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি ও দাঙ্গা-হাঙ্গামাসহ অন্তত ৪টি মামলা ও সমসংখ্যক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে।

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগটি এসেছে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানকে ঘিরে। চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় মো: হোসেন মুজিব ৫ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। ফিসারিঘাট এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর প্রকাশ্যে গুলি বর্ষণের ঘটনায় তার সরাসরি সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ রয়েছে মামলার এজাহারে। ঘটনার পর কিছুদিন আত্মগোপনে থাকলেও বর্তমানে তাকে এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, বোয়ালখালী উপজেলা কৃষক দলের এক প্রভাবশালী নেতার প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় হোসেন মুজিব এখন নিজেকে ‘কৃষক দলের সভাপতি’ হিসেবে জাহির করছেন। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে নিজেকে নিরাপদ রাখা এবং সরকারি কৃষি প্রণোদনা পুনরায় কুক্ষিগত করাই তার মূল লক্ষ্য বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী নেতাকর্মী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ব্যক্তি আমাদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালিয়েছে এবং জুলাইয়ের গণহত্যার সাথে জড়িত, তার বিএনপিতে কোনো স্থান নেই। তাকে প্রশ্রয় দেওয়া শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সুবিধাভোগী শ্রেণির এমন দলবদল নতুন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য বড় হুমকি। পুরনো ফ্যাসিবাদী শক্তির এই ‘রাজনৈতিক খোলস পরিবর্তন’ দলকে যেমন বিতর্কিত করছে, তেমনি স্থানীয় পর্যায়ে অস্থিরতার সৃষ্টি করছে।

ভুক্তভোগী নেতাকর্মীবৃন্দ এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তারা অবিলম্বে অভিযুক্ত হোসেন মুজিব এবং তাকে আশ্রয়-প্রশ্রয়দানকারী নেতার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বিএনপির নীতিনির্ধারকদের অবস্থান এখন দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন তৃণমূল নেতা কর্মীরা   তবে স্থানীয় রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং তৃণমূলের ক্ষোভ নিরসনে অনুপ্রবেশকারী ও অপরাধীদের ব্যাপারে দলটিকে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণ করতে হবে।

তথ্যসূত্র: সংগৃহীত অভিযোগপত্র এবং স্থানীয় ভুক্তভোগীদের ভাষ্য।