শুধু দালানকোঠা নির্মাণ কিংবা কাগজে-কলমে বরাদ্দ বাড়ানো নয়, স্বাস্থ্যসেবার সুফল সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অতীতের দুর্নীতি ও অপচয়ের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে স্বাস্থ্য খাতে আমূল পরিবর্তন আনতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের সম্মেলন কক্ষে নবনির্মিত ডেঙ্গু ওয়ার্ডের উদ্বোধন এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কড়া ও দিক নির্দেশনামূলক বার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এবারের জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। তবে কেবল অর্থ বরাদ্দেই সরকার ক্ষান্ত থাকছে না।
তিনি বলেন, “শুধু বাজেট বাড়ালেই হবে না, সেই অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করে জনগণকে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে।
সরকারের লক্ষ্য আগামী কয়েক বছরের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশে উন্নীত করা।”
তিনি স্পষ্ট করে জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং পরিবেশগত বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জনকল্যাণে সরাসরি ভূমিকা রাখবে—এমন প্রকল্পেই এখন বিনিয়োগ করা হচ্ছে।
দেশের বড় হাসপাতালগুলোর ওপর রোগীর চাপ কমাতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর জোর দেন অর্থমন্ত্রী। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সারা দেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের মেগা উদ্যোগের কথা জানান তিনি।
প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী হলে মানুষ শুরুতেই উন্নত চিকিৎসা পাবে এবং বড় হাসপাতালগুলোর ওপর চাপ অনেকটাই কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
চিকিৎসা সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে সেবার মান, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রামে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রতিরোধ ও উন্নত চিকিৎসা—উভয় দিকই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
চসিকের পক্ষ থেকে মশক নিয়ন্ত্রণ, লার্ভা ধ্বংস ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান নিয়মিত চলছে জানিয়ে তিনি নাগরিকদেরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
মেয়র আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, চমেক হাসপাতালে এই পৃথক ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালুর ফলে রোগীরা এখন থেকে দ্রুত ও বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
হাসপাতালের জনবল সংকট নিরসন ও আধুনিক সরঞ্জাম সংযোজনে চসিকের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান। এছাড়া চমেক হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক মানোন্নয়ন নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, হাসপাতালের পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধান এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপস্থিত সকলেই একমত পোষণ করেন যে, সরকারি বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে হলে হাসপাতালের প্রতিটি স্তরে সেবার পরিবেশ ও মানসিকতার গুণগত পরিবর্তন আনা জরুরি।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

