মাত্র নয় মাস বয়স ছিল সাউদা নুসকানের। তীব্র জ্বর আর হামের যন্ত্রণা নিয়ে শরীয়তপুর থেকে ঢাকা মেডিকেল, এরপর মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল-এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ঘুরেছে অবুঝ শিশুটি।
কিন্তু নিয়তি কিংবা চিকিৎসাব্যবস্থার চরম উদাসীনতা, কোনোটিই তার সহায় হয়নি। গত ২৬ মার্চ মায়ের কোলেই শেষ নিঃশ্বাস ছাড়ে সাউদা।
শুধু সাউদাই নয়, দেশে হামের টিকা সময়মতো না কেনা এবং স্বাস্থ্য খাতের ‘চরম খামখেয়ালিপনার’ কারণে সাউদার মতো আরও ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এমনই এক গুরুতর অভিযোগে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন সাউদার বাবা সিরাজুল ইসলাম।
আজ রোববার (৫ জুলাই) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে একটি মামলার আবেদন করা হয়েছে।
মামলার অপর দুই আসামি হলেন-স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে শরীয়তপুর সদরের বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের নয় মাস বয়সী কন্যাসন্তান সাউদা মুসকান হঠাৎ তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হয়।
স্থানীয় চিকিৎসায় কোনো উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সেখানে হামের সুচিকিৎসা না পেয়ে গত ২২ মার্চ তাকে মহাখালী সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে চরম অসহযোগিতা ও অবহেলার অভিযোগ এনে আর্জিতে বলা হয়, গত ২৬ মার্চ শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাদীর স্ত্রীর হাতে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে শিশুর মুখে লাগাতে বলেন।
একজন সাধারণ মায়ের পক্ষে সেই মুহূর্তে তা সঠিকভাবে করা সম্ভব ছিল না। শিশুর মা ব্যর্থ হলে, কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন সুইপারকে (পরিচ্ছন্নতাকর্মী) দিয়ে শিশুর মুখে অক্সিজেন মাস্ক লাগানোর ব্যবস্থা করেন। এর মাত্র দুই ঘণ্টার মাথায় মারা যায় শিশু সাউদা।
মামলার আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে, দেশে শিশুদের জীবনরক্ষাকারী টিকার জোগান সময়মতো নিশ্চিত না করা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ‘মারাত্মক খামখেয়ালিপনা’ ও অবহেলার কারণেই দেশজুড়ে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বাদীপক্ষের দাবি, এই বিপুলসংখ্যক শিশুর মৃত্যুর দায় কোনোভাবেই বিবাদীরা এড়াতে পারেন না।
চিকিৎসা খাতের এই অব্যবস্থাপনা এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণেই সাউদার মতো শত শত নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ অকালে ঝরে গেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, এর আগেও প্রায় একই ধরনের অভিযোগ এনে ঢাকার আদালতে মুহাম্মদ ইউনূস ও নূরজাহান বেগমসহ প্রশাসনের শীর্ষ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার আবেদন করা হলেও পরবর্তীতে সেগুলো খারিজ হয়ে যায়।
এখন দেখার বিষয়, ৬০০ শিশুর মৃত্যুর এই সংবেদনশীল অভিযোগে আদালত নতুন করে কী আদেশ দেন।
চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি

