বৃষ্টি থামেনি, থামেনি নজরদারিও: নগর ঘুরে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করলেন মেয়র

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৫

বর্ষা এলেই যে শহরের বুকে চেনা আতঙ্কের মেঘ জমে, থমকে যায় জনজীবন। সেই চট্টগ্রাম এবার দেখল এক ভিন্ন ছবি।

আষাঢ়ের টানা দুই দিনের চেনা বর্ষণেও নগরীর কোথাও দেখা মেলেনি সেই চেনা হাঁটু জলের। সড়কগুলো ছিল সচল, আর অফিসগামী মানুষের চোখে-মুখে ছিল না কোনো বাড়তি উদ্বেগ।

বহু বছর পর টানা বৃষ্টিতেও উল্লেখযোগ্য কোনো জলাবদ্ধতা তৈরি না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন চট্টগ্রামবাসী।

আর এই স্বস্তির বাস্তব চিত্র দেখতে সোমবার সকালে নিজেই নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শনে নামেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সকালে যখন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি পড়ছিল, তখনই মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন নগরীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ মোড়, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি পরিদর্শনে বের হন।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে কাজের অগ্রগতি নেন এবং পানি প্রবাহ সচল রাখতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শন শেষে সন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “জলাবদ্ধতামুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। চসিকের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের কারণেই টানা দুই দিনের বৃষ্টির পরও এবার নগরীতে কোনো বড় বিপর্যয় ঘটেনি।”

সিটি কর্পোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এবার বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হয়েছে। ফলে কোনো এলাকা দীর্ঘসময় পানিবন্দি থাকেনি এবং গণপরিবহন চলাচল ছিল একদম স্বাভাবিক।

মেয়র জানান, বর্ষা মৌসুমে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় চসিকের সব বিভাগ প্রস্তুত রয়েছে। কোথাও পানি জমার খবর পাওয়া মাত্রই বিশেষ টিম সেখানে ছুটে যাচ্ছে।

তবে এই সুফল ধরে রাখতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ করে অতীতে যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতার প্রবণতা বেশি ছিল, সেখানে বিশেষ নজরদারি বজায় রাখার তাগিদ দেন মেয়র।

পরিদর্শনকালে মেয়র কেবল কর্মকর্তাদের নির্দেশনাই দেননি, বরং সাধারণ পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গেও কথা বলেন।

তাদের কাছ থেকে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতির খোঁজ নেন। চেনা দুর্ভোগ থেকে মুক্তির এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মেয়র নাগরিকদের প্রতি এক মানবিক ও ধারালো আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ”নালা-নর্দমা কিংবা খালে ময়লা-আবর্জনা ও প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে আখেরে ক্ষতিটা আমাদেরই হয়।

পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে চসিকের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”

বর্ষা মৌসুমজুড়ে চসিকের এই বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে প্রয়োজনীয় জনবল ও আধুনিক সরঞ্জাম।

পরিদর্শনে মেয়রের সঙ্গে চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা, প্রধান প্রকৌশলীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামের মানুষ আশা করছেন, চসিকের এই তৎপরতা ও নাগরিক সচেতনতার মেলবন্ধনে এবার হয়তো ‘জলাবদ্ধতার অভিশাপ’ থেকে স্থায়ী মুক্তি পাবে এই বাণিজ্যিক রাজধানী।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি