সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর দাপটে বুধবার (৫ আগস্ট) রাত থেকে শুরু হওয়া অবিরাম বর্ষণে থমকে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরনগরীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কোথাও গোড়ালি জল, তো কোথাও হাঁটু সমান পানি-এর মাঝেই ভোর হতেই গন্তব্যে ছুটতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোর ৬টা পর্যন্ত নগরে ৫২ দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রথম দৃষ্টিতে এই পরিমাপ খুব বেশি মনে না হলেও, নগরীর অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এই অল্প বৃষ্টিতেই ডুবেছে বিস্তৃত নিম্নাঞ্চল।
নগরের বাণিজ্যিক এলাকা আগ্রাবাদ, আবাসিক এলাকা হালিশহর, চকবাজার এবং কাতালগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো এখন কার্যত জলের তলে। ভোর থেকেই এসব এলাকার রাজপথ রূপ নিয়েছে ছোটখাটো খালের মতো।
সবচেয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন সকালে কর্মস্থলে বের হওয়া অফিসগামী মানুষ, পোশাক কারখানার শ্রমিক, স্কুলের শিক্ষার্থী ও খেটে খাওয়া দিনমজুরেরা।
মূল সড়কগুলোতে পানি উঠে যাওয়ায় গণপরিবহন চলাচল অনেকটাই কমে যায়। যে দু-একটি বাস বা রিকশা রাস্তায় নেমেছে, সেগুলোতে চড়তে গুনতে হচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া।
অনেক স্থানে ধীরগতির যানবাহনের কারণে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ যানজটের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাঁটু সমান নোংরা পানি ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা গেছে অনেককে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস নগরবাসীর জন্য আরও চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রলয়ংকরী এই মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামসহ ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
একদিকে থমকে যাওয়া চাকা, অন্যদিকে আকাশের মেঘলা গর্জন-সব মিলিয়ে জলজটের পুরনো অভিশাপেই আবার বন্দি চট্টগ্রাম।
প্রতি মৌসুমেই নগর পিতাদের জলাবদ্ধতা নিরসনের নানা আশ্বাস মিললেও বাস্তবতা যে এতটুকু বদলায়নি, আজকের এই সকালে ভিজে এক হওয়া প্রতিটি পথচারীর ক্লান্ত মুখই তার বড় প্রমাণ।

