সীতাকুণ্ডের আট বছরের শিশু জান্নাতুল নেসা প্রকাশ ইরা মনি হত্যা মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণার তারিখ পিছিয়েছে।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই মামলার রায় ঘোষণার কথা ছিল।
তবে আদালত সূত্র জানিয়েছে, অনিবার্য কারণে রায় পিছিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হতে পারে।
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বেঞ্চ সহকারী আব্বাস হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গত বৃহস্পতিবার উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছিলেন।
তবে অনিবার্য কারণে আজ রায় হচ্ছে না। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নতুন তারিখ হতে পারে। আদালত বসলে দুপুরে বিষয়টি চূড়ান্ত জানা যাবে।”
বুলেট গতিতে চলা বিচার, শেষ মুহূর্তে বিরতি এই মামলাটি দেশের বিচারিক ইতিহাসে অন্যতম এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছিল।
অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলের পর মাত্র ১২ কার্যদিবসের মধ্যে পুরো বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে মামলাটি রায়ের পর্যায়ে পৌঁছায়।
গত ১৮ জুন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৬ কার্যদিবসে ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। গত ৩০ জুন মামলার একমাত্র আসামি বাবু শেখ আদালতে নিজের সাফাই সাক্ষ্যও দেন।
এত দ্রুততম সময়ে একটি স্পর্শকাতর হত্যা মামলার রায় ঘোষণার মুখোমুখি হওয়াটা আইন অঙ্গনে বেশ ইতিবাচক সাড়া ফেলেছিল।
তবে রায়ের দিনে এসে এই আকস্মিক বিলম্বে নিহতের পরিবার ও স্থানীয়দের অপেক্ষা আরও দুই দিন বাড়ল।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “চকলেটের লোভ দেখিয়ে যাকে পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, তার বুকফাটা আর্তনাদ যেন সীতাকুণ্ডের পাহাড়েই চাপা পড়েছিল। আমরা দ্রুততম সময়ে বিচার চেয়েছিলাম, আশা করি বৃহস্পতিবার সেই কাঙ্ক্ষিত বিচার মিলবে।”
নিহত ইরা মনি সীতাকুণ্ড উপজেলার ছোট কুমিরা মাস্টারপাড়ার টমটমচালক মনিরুল ইসলামের মেয়ে এবং স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
মামলার নথির বিবরণ অনুযায়ী, গত ১ মার্চ গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা বাবু শেখ (৪৫) চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ইরা মনিকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়।
এরপর সীতাকুণ্ড বোটানিক্যাল গার্ডেন সংলগ্ন পাহাড়ি নির্জন এলাকায় নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় বাবু শেখ।
ইরা মনি বিষয়টি সবাইকে বলে দেওয়ার কথা জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা কেটে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় ইরা মনিকে উদ্ধার করে প্রথমে সীতাকুণ্ড উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ মার্চ শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে আট বছরের এই অবুঝ শিশু।
ঘটনার পর ইরা মনির মা বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শেষ করে গত ১১ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
১২ দিনের আইনি লড়াইয়ের পর এখন পুরো সীতাকুণ্ড তথা দেশবাসী তাকিয়ে আছে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের দিকে।
আগামী বৃহস্পতিবার কি তবে অবসান ঘটছে ইরা মনির মায়ের দীর্ঘশ্বাসের? উত্তর মিলবে আদালতের পরবর্তী এজলাসেই।

