বাঁশখালী উপকূলে কোস্ট গার্ডের ঝটিকা অ্যাকশন: ৩৭ জেলেসহ ট্রলিং বোট জব্দ!

প্রকাশিত: ১২ জুলাই, ২০২৬ ২০:১০

নিস্তব্ধ রাত। ঘড়ির কাঁটায় তখন আনুমানিক একটা। চারদিকের সুনসান নীরবতাকে ভেদ করে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল মাছঘাটসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় আচমকাই শুরু হলো কোস্ট গার্ডের এক রুদ্ধশ্বাস তৎপরতা।

কোনো সাধারণ টহল নয়, নিখুঁত গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে তছনছ হয়ে গেল সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ ধ্বংসকারী এক অবৈধ চক্রের আয়োজন।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালীর সদস্যরা রাতের আঁধারে অতর্কিত হানা দিয়ে জব্দ করেছে দুটি বিশালাকার অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট এবং সমুদ্রের তলদেশ উজাড় করে ফেলা ১৪টি সর্বনাশা ট্রলিং জাল।

একই সাথে অবৈধ মৎস্য শিকারের অপরাধে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে ৩৭ জন জেলেকে।

কোস্ট গার্ড থেকে বলা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যসম্পদ ধ্বংস করে কিছু অসাধু চক্র দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ ট্রলিং জাল ব্যবহার করে আসছিল, এমন একটি গোপন তথ্য পৌঁছায় কোস্ট গার্ডের টেবিলে। সময় নষ্ট না করে দ্রুত পরিকল্পনা সাজায় কোস্ট গার্ড কন্টিনজেন্ট বাঁশখালী।

রোববার দিবাগত রাত ১টার দিকে কোস্ট গার্ডের আকস্মিক উপস্থিতিতে পালানোর কোনো সুযোগই পায়নি অবৈধ শিকারে জড়িত থাকা ব্যক্তিরা।

বোট দুটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ ১৪টি ট্রলিং জাল।

রোববার বিকেলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সফল অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, অভিযানের সময় দুটি অবৈধ আর্টিসানাল ট্রলিং বোট ও ১৪টি ট্রলিং জাল জব্দ করার পাশাপাশি অবৈধভাবে ট্রলিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৭ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে।

জব্দকৃত বোট, জাল এবং আটককৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

আমাদের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ শুধু দেশের আমিষের চাহিদাই মেটায় না, বরং দেশের অর্থনীতি ও রপ্তানি আয়ের অন্যতম বড় উৎস।

কিন্তু অবৈধ ট্রলিংয়ের ফলে সমুদ্রের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও পোনা অকালে ধ্বংস হয়ে যায়, যা দেশের নীল অর্থনীতি বা ‘ব্লু ইকোনমি’র জন্য এক বিরাট হুমকি।

এই অভিযান প্রসঙ্গে লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন দৃঢ়তার সাথে বলেন, সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ, অবৈধ ট্রলিং প্রতিরোধ এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও আমাদের এই ধরনের কঠোর ও আপসহীন অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বাঁশখালীর এই সফল অভিযান উপকূলের সাধারণ ও বৈধ মৎস্যজীবীদের মনে স্বস্তি ফিরিয়ে এনেছে।

সচেতন মহলের মতে, সমুদ্রের বুক থেকে অনিয়ম আর অবৈধতার এই জাল পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে কোস্ট গার্ডের এমন কঠোর নজরদারি আগামী দিনগুলোতেও অত্যন্ত জরুরি।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি