চট্টগ্রামের পাঁচ জেলা বাদে পরীক্ষা বহাল, সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজধানীতে বিক্ষোভ

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৯

দেশজুড়ে চলমান বন্যা ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালু রাখা এবং এ নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যের প্রতিবাদে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজধানী।

আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবরোধ ও বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

তাদের এক দফা দাবি-শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতির মাঝেই আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগকবলিত পাঁচ জেলা ছাড়া দেশের বাকি সব এলাকায় পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ীই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথারীতি অনুষ্ঠিত হবে।

ভার্চুয়াল বৈঠকে পরীক্ষা সচল রাখার সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার সকালে সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে জরুরি এক ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।

বৈঠকে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রীও।

বৈঠক শেষে অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, “দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট সবার মতামত বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চট্টগ্রাম অঞ্চলের পাঁচ জেলা ছাড়া অন্য সব এলাকায় পরীক্ষা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চট্টগ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।”

রাজপথে শিক্ষার্থীর ঢল, অচল ঢাকা বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের সমান্তরালে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।

বেলা সাড়ে ১১টার পর ঢাকা কলেজসহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে সায়েন্সল্যাব মোড়ে জড়ো হন। তারা ধানমন্ডি থেকে নিউমার্কেটমুখী সড়ক পুরোপুরি অবরোধ করেন।

একই সময়ে উত্তরের প্রবেশদ্বার উত্তরার বিএনএস সেন্টারের সামনেও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। ‘বন্যা-জলাবদ্ধতায় পরীক্ষা নয়’, ‘ভোগান্তির দায় নিতে হবে’ এবং ‘দফা এক, দাবি এক-মিলনের পদত্যাগ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে রাজপথ।

শিক্ষার্থীদের আকস্মিক এই অবরোধে মুহূর্তের মধ্যে স্থবির হয়ে পড়ে রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থা। আব্দুল্লাহপুর থেকে উত্তরা এবং সায়েন্সল্যাব সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

গণপরিবহন আটকে থাকায় শত শত যাত্রীকে চরম ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয় এবং অনেকেই পায়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা হন।

অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকা ও উত্তরা জুড়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান দেখা গেছে।

নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, “শিক্ষার্থীরা সায়েন্স ল্যাব এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।”

অন্যদিকে উত্তরা পশ্চিম থানার ডিউটি অফিসার শাহীন আলম জানান, আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত যানজট ছড়িয়ে পড়ায় তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।

ক্ষোভের মুখে বৈষম্যের অভিযোগ বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দেশের বড় একটি অংশ যখন বন্যাকবলিত এবং রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, তখন জোরপূর্বক পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শামিল।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী কাশেম শেখ বলেন, “সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত না করেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকার অনেক শিক্ষার্থী স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি। তাই আমরা এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি কলেজের আরেক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সোমবারের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের যে ভোগান্তি হয়েছে, তার দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। আমরা চাই শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হোক এবং এ বিষয়ে দায়িত্বশীলদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক।”

দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার জেদ এবং পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ নিয়ে নীতিনির্ধারকদের মন্তব্য মাঠপর্যায়ে কতটা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, রাজধানীর রাজপথ আজ তারই প্রমাণ দিল।

একদিকে স্থগিতের সিদ্ধান্ত, অন্যদিকে পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন-এই দুইয়ের টানাপোড়েনে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা ও বিতর্কের মুখে।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি