পরীক্ষা নয়, আগে জীবন গোছানোর লড়াই: চট্টগ্রামে এইচএসসি স্থগিত

প্রকাশিত: ১৭ জুলাই, ২০২৬ ১১:৪৭

বানের পানি নেমে গেছে ঠিকই, কিন্তু রেখে গেছে একরাশ ক্ষত। কোথাও উপড়ে গেছে সড়ক, কোথাও ঘরের কোণে জমে থাকা কাদার স্তূপে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি হারিয়ে যাওয়া বই-খাতা।

এমন এক বিপর্যস্ত পরিস্থিতিতে পরীক্ষার্থীদের পিঠে বইয়ের ব্যাগের বদলে মানসিক ও শারীরিক ধকলের যে বিশাল বোঝা, তা এড়ানো গেল না।

বন্যা-পরবর্তী এই চরম বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়ে শেষ পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন এইচএসসি ও সমমানের সব অবশিষ্ট পরীক্ষা

গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাতে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএমটি/ভোকেশনাল) এবং ডিপ্লোমা ইন কমার্স পরীক্ষার বাকি থাকা সব পরীক্ষা স্থগিত থাকবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি প্রফেসর সৈয়দ আক্তারুজ্জামান স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে কেবল প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, ফুটে উঠেছে এক মানবিক দায়বদ্ধতা।

বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি, পরীক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক অবস্থা, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক যোগাযোগের কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের চরম অসুবিধার কথা।

চট্টগ্রামের চন্দনাইশের এক অভিভাবক মুঠোফোনে তাঁর সংকটের কথা জানাতে গিয়ে বলেন, “ঘর থেকে পানি নেমেছে, কিন্তু মেঝেতে কাদা। ছেলেটার পড়ার টেবিলটা এখনো ভেজা।

এই অবস্থায় ও পরীক্ষায় বসবে কীভাবে? সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তাতে আমাদের বুক থেকে একটা বড় পাথর নেমে গেল।”

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বোর্ডের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো ছাড়া দেশের বাকি সব শিক্ষা বোর্ড এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষাগুলো আগের রুটিন অনুযায়ীই অনুষ্ঠিত হবে।

স্থগিত হওয়া পরীক্ষাগুলোর নতুন সময়সূচি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তীতে পৃথক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট সকলকে এই জরুরি পরিস্থিতিতে যার যার অবস্থান থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আপাতত চট্টগ্রামের হাজারো শিক্ষার্থীর জন্য এই সিদ্ধান্ত কেবল একটি প্রশাসনিক নোটিশ নয়, বরং প্রকৃতির সাথে লড়াই করে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর এক মানবিক অবসর।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি