বোর্ডের ফটক খুলে মাথায় নিয়ে পরীক্ষার্থীদের অভিনব প্রতিবাদ, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই, ২০২৬ ২০:০৫

টানা ভারী বর্ষণ আর বুকসমান জলাবদ্ধতায় স্থবির বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা যখন বিপর্যস্ত, ঠিক তখনই উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষা স্থগিত না করার সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে পরীক্ষার্থীদের মাঝে।

এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার এক নজিরবিহীন ও অভিনব কাণ্ড ঘটিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

আন্দোলনের একপর্যায়ে তারা চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকটি (গেট) সম্পূর্ণ উপড়ে খুলে নিয়ে গেছেন।

মঙ্গলবার সকাল থেকেই চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা।

বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় দিয়ে কিংবা ভিজে তারা পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের তীব্রতাও বাড়তে থাকে।

দুপুরের দিকে বিক্ষোভ প্রদর্শনের একপর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা বোর্ডের লোহার তৈরি প্রধান ফটকটি ধরে টানাটানি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা ফটকটি কবজি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে ফেলেন।

এরপর বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী মিলে সেই বিশাল গেটটি মাথায় তুলে নিয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে চলে যান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার ছবি ও ভিডিও মুহূর্তের মধ্যেই ছড়িয়ে পড়ে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আন্দোলন চলাকালে শিক্ষার্থীরা শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন।

তাদের অভিযোগ, শহরের বেশিরভাগ এলাকা তলিয়ে যাওয়ার কারণে ঘর থেকে বের হওয়াই যেখানে দুঃসাধ্য, সেখানে জোরপূর্বক পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলার শামিল।

চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার একঘেয়ে সিদ্ধান্তের পর থেকেই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা।

বোর্ডের ফটক খুলে নিয়ে যাওয়ার সময় সাধারণ পথচারী ও প্রত্যক্ষদর্শীরাও বিস্ময় প্রকাশ করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, “শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ এতটাই তীব্র ছিল যে তারা বোর্ডের মূল ফটকটিই উপড়ে ফেলেছে। তারা এটি মাথায় করে নিয়ে যাওয়ার সময় চারপাশের পরিবেশ থমথমে হয়ে ওঠে।”

এদিকে বোর্ডের ফটক উপড়ে ফেলার ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বর্তমানে শিক্ষা বোর্ড ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা বোর্ডের কোনো কর্মকর্তার আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

টানা বৃষ্টিতে নাকাল চট্টগ্রামে পরীক্ষা নিয়ে এই অচলাবস্থা কাটবে নাকি আন্দোলন আরও তীব্র রূপ নেবে, তা এখন দেখার বিষয়।

চট্টগ্রাম সংবাদ প্রতিদিন/আরএসপি